চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিকে ঘিরে চলমান বিরোধে চেম্বার জজ আদালতে দায়ের করা আবেদন খারিজ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত কজলিস্ট অনুযায়ী, ১৯ নম্বর তালিকাভুক্ত মামলায় আদালত “No order and disposed of” আদেশ দেন। এতে সোসাইটির পক্ষের পূর্ববর্তী অবস্থান বহাল থাকায় সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মামলার বাদী ছিলেন ওয়াহিদ মালেক ও অপর একজন। অপরপক্ষে ছিলেন দ্য চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড। মামলাটি ছিল সিভিল পিটিশন নং-১৫৩৮/২০২৬।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে একাধিক আবেদন করা হয়। তবে সর্বশেষ চেম্বার জজ আদালতের আদেশে সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালনায় আপাতত কোনো তাৎক্ষণিক বাধা থাকছে না বলে মনে করছেন সদস্যরা।
এদিকে সোসাইটির সাধারণ সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা সাংগঠনিক অস্থিরতার কারণে কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। আদালতের এ আদেশের ফলে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যাবে এবং সোসাইটির নিয়মিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার পর সোসাইটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগ ওঠে, সোসাইটির সভাপতি সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করেছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সোসাইটির ভেতরে অসন্তোষ চলছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সমবায় নীতিমালা উপেক্ষা করে সভাপতি ওয়াহিদ মালেক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচিত সদস্যদের মতামত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ উপ-কমিটি গঠন, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপের মতো কর্মকাণ্ড সোসাইটির স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষ করে ‘জমি ক্রয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন’ উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সভাপতির নিজেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা সমবায় নীতিমালা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়।
উচ্চ আদালতের বিচারপতি এস এম কুদ্দুছ জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ১১ মে শুনানি শেষে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে সভাপতির স্বাক্ষরিত বিভিন্ন মিটিং ও কার্যক্রম, ১৬ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর ওপর স্থিতাবস্থা জারি করা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞাও প্রদান করেন আদালত।












