চবিতে ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে চাকসুর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এর উদ্যোগে “ফারাক্কা বাঁধ: আধিপত্যবাদের নির্মম গ্রাসে বাংলাদেশ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা সোমবার (১৮ মে) দুপুর ২:৩০টায় চবি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু দীর্ঘমেয়াদী একটি অমীমাংসিত বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা আপাত দৃষ্টিতে একটি বাঁধ আর পানির ইস্যু দেখলেও আসলে এটা ভূ-রাজনৈতিক বড় একটি বিষয়। ভারত এটাকে ব্যবহার করে আধিপত্যবাদ জিইয়ে রেখেছে। ভারত কলোনিয়াল মানসিকতা পোষণ করে। এজন্য পানি থেকে শুরু করে সবকিছু দিয়ে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। যার কারণে আমরা যখন চাই তখন পানি পাই না, আবার যখন দরকার হয় না তখন পানি উপচে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সাথে আমরা অসম সম্পর্কের মধ্যে রয়েছি। ভারতের সাথে আমাদের একমুখী যোগাযোগ কার্যকর রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক হয়নি, সরকারের সাথে সরকারের সম্পর্ক হয়েছে। ভারতকে যেমন আমাদের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনিভাবে বাংলাদেশকে ভারতের প্রয়োজন রয়েছে, এটা বুঝতে হবে। তিনি বাংলাদেশের ফরেন পলিসি যথাযথভাবে নির্ধারণ এবং কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন৷

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ফারাক্কার ইস্যুটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের ইতিহাস চর্চা করতে হবে। ভারতের আগ্রাসী মনোভাব অনেক আগ থেকেই আমাদের ওপর শুরু হয়েছে। যার কারণে তারা ফারাক্কা ইস্যুসহ নানাভাবে আধিপত্য দেখাতে চায়। এ ফারাক্কা নিয়ে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কথা বলেছিলেন। আজকে উনার মতো নেতা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে অধিকার সচেতন হওয়ার আহ্বানা জানান এবং ধন্যবাদ জানান।

অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফ। আলোচনা সভায় চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে চাকসু কর্তৃক আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বই পাঠ প্রতিযোগিতা ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।