রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত প্রাচীন ঈশা খাঁ দিঘির জলীয় অংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আবুল কাসেম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রায় ২৫ একর আয়তনের এ দিঘিটি উপজেলা পরিষদের অধীনে সরকারি ইজারায় মাছ চাষের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, রাউজানের সবচেয়ে বড় এই দিঘিটি তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় মোহাম্মদ জাবেদ নামে এক ব্যক্তিকে।
রোববার (১০ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির উত্তর পাড়ে একটি পাকা ঘাটের পাশের জলীয় অংশে কয়েকজন শ্রমিক পাকা দেয়াল নির্মাণ করছেন। শ্রমিকদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাসেমের নির্দেশে এ নির্মাণ কাজ চলছে। দিঘির জলসীমার ভেতরে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আবুল কাসেম বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নুরুল হুদা ও ইজারাদার জাবেদের অনুমতি নিয়েই প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করছি। দিঘির পাড় ভাঙন রোধে এ কাজ করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে নোয়াজিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিন্নাত আরা বেগম জানান, “দিঘির জলীয় অংশসহ পাড় দখলের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
ইজারাদার মোহাম্মদ জাহেদ বলেন, “আমি অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রামে অবস্থান করছি। এ সুযোগে দিঘির জায়গা দখলের চেষ্টা চলছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নুরুল হুদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি দিঘি দখলের অনুমতি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, “দিঘির কিছু অংশ দখলের অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই প্রাচীন দিঘিটি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের দখল বা অবৈধ নির্মাণ না হয়।












