চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আকাশে রহস্যময় আলোকরশ্মি: জনমনে আতঙ্ক ও কৌতূহল

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কাপ্তাই, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আকাশে হঠাৎ রহস্যময় আলোকরশ্মি দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে জনমনে কৌতূহল ও কিছুটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর বা রাতের প্রথম ভাগে আকাশে উজ্জ্বল ও দীর্ঘ আকৃতির আলোকরেখা দ্রুত চলাচল করতে দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে আলোটি স্থির ছিল বলেও অনেকে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে এই আলোকচিহ্ন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, এটি কোনো আবহাওয়াগত ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এটি সম্ভবত উচ্চ উচ্চতায় সংঘটিত কোনো কৃত্রিম কার্যক্রমের ফল। তিনি বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে এটি ভারতের জলসীমা বা উড়িষ্যা উপকূলের দিক থেকে পরিচালিত কোনো দূরপাল্লার মিসাইল পরীক্ষার ফল হতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও ভারতের ‘অগ্নি’ সিরিজের মিসাইল পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশে এ ধরনের আলোকচ্ছটা দেখা গেছে। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট যখন বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে পৌঁছায়, তখন জ্বালানির দহন, ধোঁয়া এবং সূর্যালোকের প্রতিফলনের কারণে আকাশে উজ্জ্বল রেখার মতো আলো দেখা যায়।

এর মধ্যেই ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ভারত বঙ্গোপসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’-এর পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে। এ জন্য ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান’ (NOTAM) জারি করা হয়েছে।

তবে ভারতের সম্ভাব্য এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ধরনের আলোকরেখা অনেক সময় উচ্চ বায়ুমণ্ডলে রকেট, স্যাটেলাইট বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় জ্বালানির দহন ও আলোর প্রতিফলনের কারণে দেখা যেতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে সরকারি ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের তথ্য প্রয়োজন।

হঠাৎ আকাশে এমন অস্বাভাবিক আলোর ঝলক দেখে কেউ রোমাঞ্চিত হয়েছেন, আবার অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও রহস্যের অনুভূতি। এখন সবাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন।