প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে অনলাইন গণশুনানি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: জেলা প্রশাসক

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন এবং তাদের সমস্যা সরাসরি শোনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে দেশে গণশুনানির আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত শুনানিতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এ গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হন।

এসময় বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন ডিসি।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব অভিযোগে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তারা পরিবার থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, যার মাধ্যমে দেশের বড় অংশের বৈদেশিক ব্যয় মেটানো হচ্ছে। তাদের এই অবদানকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি ও পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন। এসব সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রযুক্তির কারণে প্রবাসীরা এখন দূরে থেকেও সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাদের জানাতে চাই, তাঁরা দূরে নন, প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গণশুনানিতে আসা বেশিরভাগ অভিযোগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা এবং চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজ সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবি প্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ উপস্থাপন করেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে অনেক মানবিক আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। জরুরি ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আবেদনকারীদের জানানো হয়।

এই উদ্যোগের ফলে জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন- উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাইনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল।