রাউজানে কাউসার উল আলম বাবলু নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে
শফিউল আলম, রাউজান: রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে কাউসারুল আলম বাবলু (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনার পর মামলার এজাহার নামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাউজান পৌরসভার পূর্ব আইলিখীল খামার টিলা নানার বাড়ী থেকে তার বাড়ীতে আসার সময়ে দুবৃত্তের গুলিতে নিহত হয় কাউসার উল আলম বাবল। নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনার পর গত ২৫ এপ্রিল শনিবার বিকালে নিহত কাউসার উল আলম বাবুলুর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে তার বাড়ীতে আসার সময়ে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকায় চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কে বাবলুর লাশ রেখে বিক্ষুদ্ব জনতা সড়ক অবরোধ করে বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে জনতা বাবলুর হত্যাকারীদের গ্রেফতার পুর্বক শাস্তির দাবী জানান। সড়ক অবরোধ চলাকালে একপর্যায়ে জনতা পুলিশের ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ঘটনাস্থলে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা, থানার ওসি (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরের পিঠের বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম আরো বলেন, বাবলুর হত্যাকান্ডের ঘটনায় রাউজান থানায় নিহত বাবলুর পিতা আবুল কালাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা করেন ।মামলার এজাহারে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করা হয়।
আসামীর রাউজান থানার মামলা নং-২১, তারিখ-২৬/০৪/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।হত্যকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ। গত ২৬ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৩নং আসামী রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পুর্ভ রাউজান রহমত পাড়া এলাকার মৃত আবদুর রহিমের পুত্র মোঃ শফি (৩৯), রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পুর্ব রাউজান কাজী পাড়া এলাকার নুরুল আমিনের পুত্র এজাহারনামীয় ৫নং আসামী মোঃ সুমন (৩৩),কে গ্রেফতার করে গ্রেফতারকৃত দুজনকে গতকাল ২৬ এপ্রিল রবিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন পুলিশ।
গত ২৬ এপ্রিল (শনিবার) বিকালে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ শাহ সুন্দর আউলিয়া জামে মসজিদ মাঠে বাবলুর জানাজার নামাজ শেষে তার লাশ পাশ^বর্তী কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাউজানে গত ১৯ মাসে ২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিএনপির ১৬ জন নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগের ৫ জন এবং পারিবারিক কলহের জেরে ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহত বাবলু রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকার আবুল নঈম সওদাগর বাড়ির আবুল কালামের পুত্র। রাউজান থানার ওসি রাউজান মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন জেলা পুলিশ সুপার সাজির আহম্মদ খানের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে বাবলূ হত্যাকান্ডের ঘটনার মামলার দুজন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অনান্য সন্ত্রাসীদেরকে ও গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।












