জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ বলি


মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা-এর ১১৭তম আসরে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘হ্যাট্রিক’ গড়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ| শনিবারের ফাইনালে তিনি একই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রাশেদকে হারিয়ে আবারও সেরার মুকুট ধরে রাখেন|
এবারের আসরে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১০৮ জন কুস্তিগীর অংশ নেন| গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ ও রানারআপ রাশেদসহ শীর্ষ চারজন সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেন| বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসা বাগেরহাট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের কুস্তিগীররাও লড়াইয়ে অংশ নেন|
কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল পেরিয়ে বাঘা শরীফ ও রাশেদ আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হন| সেমিফাইনালে বাঘা শরীফ সহজ জয় পেলেও রাশেদকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ফাইনালে উঠতে হয়| তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে সাভারের মিঠু, শাহজালালকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন|
ঐতিহাসিক এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র লালদীঘি ময়দান-এ| ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের সংগঠিত ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে ১৯০৯ সালে ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর এই কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন|
বাংলা পঞ্জিকার ১২ ˆবশাখ ঘিরে প্রতি বছর এই বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং এর সঙ্গে যুক্ত মেলা চট্টগ্রামবাসীর অন্যতম বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে| যদিও সাধারণত তিন দিনব্যাপী মেলা বসে, এবছর এসএসসি পরীক্ষার কারণে সময় কিছুটা কমানো হয়েছে|
এই আয়োজন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়—এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক|
বলী খেলাকে ঘিরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা উপলক্ষে লালদীঘি ময়দান সংলগ্ন এলাকায় বসা ˆবশাখী মেলাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়| দিনভর মানুষের ঢল নেমে আসে মেলায়—কেনাবেচা, মুখরোচক খাবারের স্টল, খেলনা, হস্তশিল্প ও নানা বিনোদনের আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে|
পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা যেন প্রাণ ফিরে পায়| শিশুদের কোলাহল, নাগরদোলা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ মিলে ˆতরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ|
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটবে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের|

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে এই বলীখেলার সূচনা হয় ১৯০৯ সালে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রচলন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় লোকজ উৎসবে পরিণত হয় এবং আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলছে।