চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল ৩.৩০টায় চবি মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার ও মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর কঠিনতম সময় অতিক্রম করে অবশেষে গণতান্ত্রিক পরিবেশে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বলতে পারছি। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একটা দর্শনের নাম। এটা হচ্ছে মানুষের মাুক্তির দর্শন। এটা মানুষের মূল্যবোধ, চেতনা এবং বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের দর্শন। এটা জাতির মুক্তির সনদের জন্য, জাতি নিজ ধর্ম ভালোভাবে পালনের জন্য একটা প্যাকেজ। এ দর্শনের প্রবক্তা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ দর্শনের কথা আমরা দীর্ঘদিন পর উন্মুক্ত পরিবেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে বলতে পারছি, এটা একটা সৌভাগ্যের বিষয়। এজন্য আল্লাহর নিকট শুকরিয়া। মাননীয় উপাচার্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সকল শহীদরে রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। মাননীয় উপাচার্য বলেন, তারুণ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতগতিতে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। মাননীয় উপাচার্য এমন আয়োজনের জন্য শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তাঁর শৈশবের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং শহীদ জিয়ার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন৷ তিনি বলেন, এ আয়োজন নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের মনে অনুপ্রেরণা যোগাবে। বিগত শিক্ষার্থীরা সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পায়নি। এখন সময় এসেছে সত্য ইতিহাস জানার। ইতিহাসের কোনো অংশ বাদ দিয়ে কিংবা কারো অবদান ছোট করে নয় সঠিক ইতিহাসটা শিক্ষার্থীদের জানতে হবে। আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এ প্রজন্মকে জানতে হবে। শহীদ জিয়া শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, তিনি বর্তমান যে বাংলাদেশ, সেটার রুপকার ছিলেন।
আজকের আধুনিক অনেক কিছুরই বীজ বপন করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরেছিলেন। জনবান্ধব অনেক উদ্যােগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি, যার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। বিগত সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানতে পারেনি কেউ। সঠিক ইতিহাস জানা দরকার। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। সভাপতির বক্তব্যে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ চবির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানানোর লক্ষ্যে আমাদের এ আয়োজন করা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতির আদর্শ ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। আমাদের শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এ আয়োজন বাস্তবায়ন করার জন্য। সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান, জিয়া স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি এস.এম. নাজিম উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মোরশেদুল আলম, সদস্য মো. জসিম ও মো. ইসরাফিল এবং চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ছবুর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ, বই ও একটি ফলজ গাছের চারা প্রদান করা হয়। মাননীয় উপাচার্য বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী পরিবারের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মাননীয় উপাচার্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যবৃন্দ। এরপর মাননীয় উপাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যবৃন্দ, চবি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ, কর্মীগণ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।












