মির্জা ইতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফলের আড়ত ও খুচরা বাজারে তরমুজের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তরমুজ আসায় নগরীর আড়তগুলো তরমুজে ভরে গেছে। ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই তরমুজের দাম পড়তির দিকে রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাঙ্গামাটি, ভোলা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরিশাল, কুয়াকাটা, চাঁদপুর ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে প্রতিদিন তরমুজ আসছে চট্টগ্রামের আড়তগুলোতে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় তরমুজের দাম কমতে শুরু করেছে।

নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার এক আড়তদার রহিম জানান, বাজারে তরমুজের আমদানি বাড়ায় দাম নিম্নমুখী। গত সপ্তাহে বড় সাইজের (৭ু১০ কেজি) ১০০টি তরমুজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে একই সাইজের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। মাঝারি সাইজের (৫ু৭ কেজি) ১০০টি তরমুজের দাম আগে ছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, যা এখন নেমে এসেছে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকায়।
এ ছাড়া ছোট সাইজের (৩ু৫ কেজি) ১০০টি তরমুজের দাম আগে ছিল ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা, যা এখন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ছোট সাইজের (২ু৩ কেজি) তরমুজের ১০০টির দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা থেকে কমে বর্তমানে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
বিক্রেতারা জানান, কয়েকদিন আগেও যে দামে একটি মাঝারি আকারের তরমুজ পাওয়া যেত, এখন সেই দামে বড় আকারের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। বড়-ছোট সব আকারের তরমুজের দামই কমেছে।
ক্রেতারা বলছেন, রমজানকে সামনে রেখে তরমুজের দাম কিছুটা কমায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমবে বলে আশা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগামী কয়েকদিনে তরমুজের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে ভোলা থেকে ব্যাপক হারে তরমুজ নিয়ে আড়তে আসছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এক আড়তদার জানান, প্রতি ট্রাকে প্রায় দুই হাজার থেকে চার হাজার তরমুজ থাকে। ভোলা থেকে চট্টগ্রামে তরমুজ আনতে ট্রলার ও ট্রাক ভাড়া মিলিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি থেকে তরমুজ আনতে ট্রলার ও ট্রাক ভাড়া মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
ব্যবসায়ীদের মতে, পরিবহন খরচ কমানো গেলে তরমুজের দাম আরও কমতে পারত। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় পরিবহন ভাড়াও বাড়ছে বলে জানান তারা।












