রাউজানে অভিযানের পরেও থামছে না মাটি খেকোদের কর্মযজ্ঞ

শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পাহাড়ী এলাকায় পাহাড় টিলা কাটছে রাতের আধারে মাটি খেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পাহাড়ী এলাকায় পাহাড় টিলা কাটা ছাড়াও কৃষি জমি থেকে এসকেভেটার দিয়ে কাটছে মাটি। পাহাড় টিলা কাটা মাটি ইটের ভাটায় ও রাউজান হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় পুকুর জলাশয়, কৃষি জমি ভরাট কাজে বিক্রয় করছে মাটি খোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

রাতেই পাহাড় টিলা কৃষি জমি থেকে এসকেভেটার দিয়ে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে সড়ক পথে মাটি নিয়ে যায় মাটিখোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। একাধিবার অভিযান করে জরিমানা আদায় করা হলে ও জরিমানা দেওয়ার পর পাহাড় টিলা কৃষি জমি থেকে মাটি কাটছে মাটি খোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। রাউজানের পাহাড়ী এলাকা হলদিয়া রাবার বাগানের পাশে বৃকবানপুর, বৃন্দ্বাবনপুর, বানারস, দলই বাড়ী, এয়াসিন নগর, শিরনী বটতল, জানিপাথর, গলাচিপা, জাইল্যার টিলা, রাবার বাগানের পাশে পাহাড় টিলা কৃষি জমি থেকে মাটি কটা হলে ও হলদিয়া রাবার বাগান কতৃপক্ষ নিরবতা পালন করে আসছে রহস্যজনক কারনে। একই ভাবে ডাবুয়া রাবার বাগানের পাশে সুড়ঙ্গা, উত্তর আইলী খীল, রাধামাধবপুর, মেলুয়া, আইলী খীল, ওয়াহেদের খীল, দাওয়াত খোলা এলাকায় পাহাড় টিলা কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হলেও ডাবুয়া রাবার বাগান ও নিরবতা পালন করে আসছে। রাউজান রাবার বাগানের পাশে জঙ্গল রাউজান, খামার টিলা, হলদিয়া বিল, রহমত পাড়া, পূর্ব রাউজান, কাজী পাড়া, চিকনছড়া, মুখছড়ি, ভোমর ঢালা, কালকাতপাড়া, শমশের পাড়া এলাকায় পাহাড় টিলা কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হলে ও রাউজান রাবার বাগান নিরবতা পালন করে আসছে।

মাঝে মধ্যে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি অংছিং মারমা পুলিশ আনসার বাহিনীর সহায়তায় অভিযান করে জরিমানা আদায় করলে ও অনান্য সংস্থা ও নিরবতা পালন করে আসছে। গত ২ মার্চ (সোমবার) বিকালে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট অংছিং মারমা সংস্থা উপজেলার আলীরখিল এলাকার রাউজান রাবার বাগান ও ডাবুয়া রাবার বাগানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংছিং মারমা।সময় নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কাটার অপরাধে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি মাটিখেকো চক্র নির্বিচারে পাহাড়, টিলা ও কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল। এর ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংছিং মারমা বলেন,“অবৈধভাবে পাহাড় ও টিলা কাটার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও যারা এ অপরাধে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।