তারেক ওয়েভে জেগে উঠল দেশ
মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: দেশজুড়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এক অভূতপূর্ব জনজোয়ারে রূপ নিয়েছে। সেই ঢেউয়ের নাম—তারেক রহমান ওয়েভ। নির্বাচনী মাঠ থেকে রাজপথ পর্যন্ত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে স্পষ্ট হয়েছে জনতার প্রত্যাশা ও আস্থার প্রতিফলন। এই অপ্রতিরোধ্য স্রোতেই ভর করে বিজয়ের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত তৎপরতা, তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ভোটকেন্দ্রমুখী উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। গণসংযোগ, সমাবেশ ও ঘরে ঘরে পৌঁছানো বার্তায় স্পষ্ট ছিল—মানুষ দেশ বদলাতে চায়, ফিরিয়ে আনতে চায় ভোটের মর্যাদা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের পর আবারও সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচনী জয় নয়; বরং দীর্ঘ আন্দোলন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও কৌশলগত রাজনীতির সম্মিলিত ফল। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে বিজয়োৎসবে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করেন, বিজয়ী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পুনর্গঠন, প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্কতা এবং আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীুবিরোধী জনমত তৈরির কৌশল এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা কালীন সংগঠক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির জৈষ্ঠ নেতা নূরুলআমিন এমএনসি বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ ও গণভিত্তিক দল। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ বরাবরই বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে।”
রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহন বলেন, “আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকলে রাজনৈতিক মাঠে বিএনপিই সবচেয়ে বড় একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়—এই ফলাফল তারই প্রতিফলন।”
ফলে ‘তারেক ওয়েভ’ এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়—এটি সময়ের দাবি, জনতার শক্তি এবং পরিবর্তনের স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।












