কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্প ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের দোহাজারীতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ৫ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে ৩৪৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ অভিযান চালানো হয়।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৩টি ক্যাম্পে ১৪ লাখের বেশি মিয়ানমারের আশ্রিত রোহিঙ্গা নাগরিক বসবাস করছে। তবে অনেকেই ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তার স্বার্থে এসব রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরাতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ দল চট্টগ্রামের দোহাজারীর ২ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বার্মা কলোনিতে ৫ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায়। অভিযানের শুরুতে বার্মা কলোনি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযানে মোট ৩৪৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৭৬ জন পুরুষ, ৮৬ জন নারী ও ৮৩ জন শিশু রয়েছে।
সেনাবাহিনী জানায়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের বিষয়ে সেনাবাহিনী ১ ইস্ট-বেঙ্গলের অধিনায়ক লে. কর্নেল সায়মন সিকদার বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন জানায়, জরুরি দুটি কারণ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে যাওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। তারপরও অনেকে ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা কেবল দুটি নির্দিষ্ট কারণে ক্যাম্পের বাইরে যেতে পারে। প্রথমত, চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে যদি তাদের কাছে বৈধ রেফারেল ডকুমেন্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকে এবং সেই রেফারেলের মাধ্যমে সদর হাসপাতাল, টেকনাফ হাসপাতাল অথবা উখিয়া হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, আইনি কারণে যদি কোনো আদালতে সাক্ষী হিসেবে অথবা আসামি হিসেবে হাজিরা দেয়ার প্রয়োজন হয় এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দুটি কারণ ছাড়া অন্য কোনো অজুহাতে বা উদ্দেশ্যে ক্যাম্পের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে এপিবিএন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যেন তারা বিষয়টি কঠোরভাবে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে।’
উল্লেখ্য, গত এক মাসে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গাকে আটকের পর শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের মাধ্যমে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।












