প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের আওতায় ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটির সহযোগিতায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধে সচেতনতা সেশন অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন, কমিউনিটি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

কিছুদিন আগে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এবং ইপসা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় ইপসা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করবে—যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ। এমওইউ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একটি ইনসেপশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইপসা জানায় তারা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লেইন্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতা সেশন আয়োজন করা হচ্ছে।
ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সচেতনতা সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। সেশনে বিভিন্ন বিভাগ থেকে অংশগ্রহণকারী ছিলেন ৪৫ জন শিক্ষার্থী। এতে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটির আহ্বায়ক ড. মেহের নিগার, সদস্য গাজী শাহাদাত হোসেন ও সদস্য-সচিব উম্মে সালমা উপস্থিত ছিলেন।
সেশনটি পরিচালনা করেন ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের ম্যানেজার তুষার কুমার রায়। তিনি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক বিবরণ উপস্থাপন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে প্রকল্পটি লিঙ্গবৈষম্য নিরসনে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে গুণগত পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।
কমপ্লেইন্ট কমিটির আহ্বায়ক ড. মেহের নিগার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী কাউন্সেলিং ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সচেতনতা সেশন অংশগ্রহণকারীদের আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি, সমস্যার প্রতিক্রিয়া এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। তিনি জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের যে-ভূমিকা থাকা দরকার, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য গাজী শাহাদাত হোসেন ও সদস্য-সচিব উম্মে সালমা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটি যৌন হয়রানী প্রতিরোধে কীভাবে কাজ করে, সেসব বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিশদ ধারণা দেন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।












