কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে নতুন হাতি শাবকের জন্ম, সংখ্যা বৃদ্ধি

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি): দেশের সমৃদ্ধ বনাঞ্চল কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে নতুন হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে।

শুক্রবার(২৩ জানুয়ারী) ওই হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন। বছরের প্রথমে হাতি শাবকের জন্মে বেশ খুশি বনবিভাগের কর্মচারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান সহ এর আশেপাশের এলাকায় বুনো হাতির উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে হাতি মানুষের দ্বন্ধ চরম আকার ধারণ করে এবং হাতির আক্রমণে জানমালের ক্ষতি সাধিত হয়। ফলে স্বাভাবিক প্রজননে বাঁধা প্রাপ্ত হওয়া এবং বনে খাবার সংকটের কারণে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসছে স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ তোলেন। এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। বিশেষ করে বর্তমানে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থল বাড়ছে এবং পর্যাপ্ত খাদ্য পাচ্ছে এবং স্বাভাবিক প্রজনন হচ্ছে বলেই নতুন হাতি শাবকের সুস্থভাবে জন্ম হয়েছে। তাছাড়া বনবিভাগ চেষ্টা করছে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানকে আরো সমৃদ্ধি করতে যেন বুনো হাতির পাশাপাশি অন্যান্য বন্যপ্রাণী সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।

এবিষয়ে আলাপকালে রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, নতুন বছরে হাতি শাবকের জন্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আমরা বনবিভাগ বুনো হাতিদের আবাসস্থল রক্ষায় ও খাদ্য সংকট দুর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ বনাঞ্চল। এখানে প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি বুনো হাতির পাল ঘুরাঘুরি করে থাকে। বুনো হাতি ছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রয়েছে। বিগত বছর গুলোতেও এই উদ্যানে দুই থেকে তিনটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথমে একটি শাবকের জন্ম হলো। বর্তমানে আমরা শাবকটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় বুনো হাতির পালটিকে সার্বক্ষনিক নজরে রাখছি। এছাড়া কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির খাদ্য বৃদ্ধিকরণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছি। ফলে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থলের পরিধি আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময় হাতি মানুষের যেই দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্য মানুষেরও দায় রয়েছে। কেননা হাতির আবাসস্থল অর্থাৎ হাতি চলাচলের করিডোরে মানুষ চলাচলের পাকা রাস্তা, বসতি সহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছে। এতে করে হাতি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে উত্তেজিত হয়ে বন্যহাতি মানুষ ও জানমালের ওপর আক্রমন করে বসছে।

এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। হাতি বনের প্রাণী। কিন্তু মানুষ হচ্ছে সৃষ্টির সেরা জীব। হাতি সুরক্ষায় সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বনবিভাগকে তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে হবে। এতে করে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫ হাজার ৪শ’ ৬৪ হেক্টর আয়তনের এই পার্কে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চল, সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি ঝিরি, ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়ারণ্য রয়েছে। এটি বন্যপ্রাণী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বেশ পরিচিত। বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এবং দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যময় এলাকা।