গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্টে বিষয়টি জানান মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বলেন, এবারের লক্ষ্য হবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন ও উপত্যকা পুনর্গঠন। গাজার শাসনভার পরিচালনার জন্য কায়রোতে প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটি। তারাই চূড়ান্ত করবেন উপত্যকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

গাজায় প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির পর বহুবার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে হুমকির মুখে পড়ে শান্তি চুক্তি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন গাজায় শুরু হতে যাচ্ছে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এবারের লক্ষ্য হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজি নামের কমিটি উপত্যকার বেসামরিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করবে।

গাজার শাসনভার পরিচালনার জন্য কায়রোতে প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন কমিটির সদস্যরা। তারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে গাজার পুনর্গঠনে কাজ করবেন। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের সাবেক উপমন্ত্রী উপ-পরিকল্পনা মন্ত্রী আলী শা’তের নাম ঘোষণা করেছে মিশর, কাতার ও তুরস্ক।

যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যার পুনর্গঠন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তুরস্ক, মিশর এবং কাতারের মধ্যস্থতায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

ট্রাম্পের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনায় শুধু হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নয়, বরং ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা এবং ত্রাণ সরবরাহে বাধার কারণে শান্তি প্রক্রিয়া এখনো বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে।