চট্টগ্রামে ফুলের রাজ্যে উৎসবের রোশনাই

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: প্রকৃতির রঙে-গন্ধে মেতে উঠতে যাচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আজ থেকে ফৌজদারহাটে অবস্থিত চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে শুরু হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ও বর্ণিল ফুল উৎসব। ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহে সাজানো এই উৎসব আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মাসব্যাপী এ আয়োজন প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দিচ্ছে এক অনন্য সৌন্দর্যের দুয়ার।

শুক্রবার শুরু হওয়া এই ফুল উৎসব চলবে টানা এক মাস। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি উৎসবের পর্দা নামবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

ফুলের পাশাপাশি এবারের উৎসবে থাকছে নানান আধুনিক ও বিনোদনমূলক আয়োজন। জালাধার ও বাগানের ওপর দিয়ে জিপলাইনে চড়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের দেবে ভিন্নমাত্রার আনন্দ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে সাংস্কৃতিক উৎসব, বই উৎসব, পুতুল নাচ, ঘুড়ি উৎসব ও পিঠা উৎসব। উৎসবের মঞ্চে পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন বিশ্বের ১৬টি দেশের শিল্পীরা, যা উৎসবকে দেবে আন্তর্জাতিক আবহ।

প্রতিদিন ৫০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে দর্শনার্থীরা ডিসি পার্কে প্রবেশ করে ফুল উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। অনলাইনে টিকিট কেনার সুবিধাও রাখা হয়েছে। ফপঢ়ধৎশপযধঃঃড়মৎধস.পড়স ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগ্রহীরা সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা দেখতে গতকাল ডিসি পার্ক পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এই সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, আসলে আমার কাছে মনে হয় এই ফুল উৎসব এখন আর ডিসি পার্কের ফুল উৎসব নয়,এটি আসলে চট্টগ্রামবাসীর উৎসব,চট্টগ্রামের উৎসব। আমরা রংধনুর রঙে সাজিয়েছি এই ডিসি পার্ককে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব। চতুর্থবারের মতো ডিসি পার্কে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাসব্যাপী এ উৎসবে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও কাওয়ালি সন্ধ্যাসহ নানা আয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকবে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফুলের সাজে সাজানো ডিসি পার্কে টিউলিপ, গোলাপ, নানা রঙের গাঁদা, ডালিয়া, রেড সেলভিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, সন্ধ্যামালতি, রজনিগন্ধা, নয়নতারা, থাই জবা ও দোলনচাঁপাসহ অসংখ্য ফুলের অপরূপ সমাহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। লাল-হলুদ ছাড়াও সাদা ও গোলাপি ফুলের রঙিন আবেশ ছড়িয়ে পড়বে পার্কজুড়ে।

এবারের উৎসবে গণভোট সংক্রান্ত একটি বিশেষ স্টলও থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে বসবাসকারী ১৬টি দেশের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সংস্কৃতি তুলে ধরবেন মাল্টিকালচারাল পরিবেশনায়।

১৯৬ একর বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা ডিসি পার্কে রয়েছে ফুডকোর্ট, রেস্টুরেন্ট, বসার স্থান, সেলফি কর্নার, হাঁটাচলার উন্মুক্ত পথ, সানসেট ভিউ পয়েন্ট, টিউলিপ গার্ডেন ও পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের আরাম ও আনন্দের সব আয়োজনই রাখা হয়েছে এখানে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নান্দনিক ডিসি পার্ক শুধু ফুলের রাজ্য নয়, এটি জলাশয়ের রাজ্য হিসেবেও পরিচিত। ফুল ও জলাশয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেমে প্রজাপতি, মৌমাছি, ফড়িং, পানকৌড়ি ও রঙিন মাছের বিচরণ প্রকৃতিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। ফুলের পরাগায়ন আর জলজ জীবনের সহাবস্থানে ডিসি পার্ক যেন এক জীবন্ত প্রকৃতি-চিত্রকলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রতি বছরের মতো এবারও আনন্দ, রঙ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে চট্টগ্রামের ফুল উৎসব হয়ে উঠবে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।