বাঁশখালীতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযানে ট্রলিং জালসহ আটক ৭

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির মূলহোতা ভারতীয় নাগরিকসহ ৬ বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি কারখানায় নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজ চলছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন ওই কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার ১২টি অবৈধ ট্রলিং জাল ও জাল তৈরির সরঞ্জামসহ ট্রলিং বোট তৈরির মূল কারিগর ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করা হয়। আটক হয় ৬ জন বাংলাদেশি কারিগর। ট্রলিং জাল তৈরির মূলহোতা ভারতীয় নাগরিক পন্ডিত বিশ্বাস (৩৯) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পণ্ডিত বিশ্বাস বাংলাদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশি ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেন।

তিনি সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশে ভ্রমণ ভিসায় আসেন। এছাড়াও তিনি ইতোপূর্বে বহুবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে বরগুনার পাথরঘাটায় মাসুম কোম্পানি, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শুক্কুর, ইসমাঈল ও জাহাঙ্গীর কোম্পানিতে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির কাজ করে আসছেন। ফলে, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে ট্রলিং বোট ও জালের বিচরণ অনেকাংশে বেড়েছে।
গত ১২ আগস্ট কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।

কিছু অসাধু ট্রলিং জাল ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের বাাঁশখালীর শুক্কুর কোম্পানি এবং জাহাঙ্গীর কোম্পানির সরাসরি হস্তক্ষেপে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে পণ্ডিত বিশ্বাস জামিনে মুক্তি পেয়ে আরও বড় পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির কাজ শুরু করেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের কার্যক্রম প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত নিরলস কাজ করছে কোস্ট গার্ড।
সম্প্রতি কিছু অসাধু মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারি নিষেধ অমান্য করে কাঠের ফিশিং বোটে অবৈধভাবে ট্রলিং সরঞ্জামসহ ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল স্থাপন করে আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে রূপান্তর করছে। এ ছোট ফাঁসের জালে আটকে পড়ে গভীর ও অগভীর সাগরের ডিমওয়ালা মা মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ক্রমশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিগত চার বছরে আশঙ্কাজনকভাবে মাছের প্রজনন কমেছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ছে সাধারণ জেলেরা।

জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।