আমরা মালিক-শ্রমিক বৈরিতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না: আ ন ম শামসুল ইসলাম

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, দেশের শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। কারণ জামায়াতই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়ে দেখে এবং ইসলামী ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শ্রমনীতি বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে।

৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের জামালখানস্থ নগর কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগরের মাসিক থানা ও সেক্টর দায়িত্বশীল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, “আজ দেশের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, বঞ্চিত ও নিরাপত্তাহীন। ন্যায্য মজুরি, সময়মতো বেতন, ঈদ বোনাস ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা—এসব মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিকদের শুধু ভোটের সময় মনে রাখে, কিন্তু জামায়াত সারা বছর শ্রমিকদের পাশে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের রাজনীতি দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শভিত্তিক হওয়ায় শ্রমিক সমাজ এতে আস্থা রাখতে পারছে।

“আমরা মালিক-শ্রমিক বৈরিতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না; বরং ন্যায়ভিত্তিক সমঝোতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। ইসলামের শ্রমনীতিতে বলা হয়েছে—শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। জামায়াত সেই নীতিকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়,” বলেন তিনি।

আ ন ম শামসুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অতীত সরকারগুলো শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবে শ্রমিকদের জীবনমানের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। গার্মেন্টস, কলকারখানা, পরিবহন ও বন্দর শ্রমিকরা আজও চরম ঝুঁকি ও অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শ্রমিকদের জন্য বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা চালু করা হবে। নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “শ্রমিকরা আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি চায় না। তারা চায় ন্যায়বিচার, সততা ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব। এই কারণেই শ্রমিক সমাজ ক্রমেই জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে ব্যালটের মাধ্যমেই এর প্রতিফলন ঘটবে।”

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার এবং পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলামসহ নগর ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।