সীতাকুণ্ডের শিপ ইয়ার্ডে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, কর্তব্যরত কাজে অবহেলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটি তদন্ত করা হচ্ছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী আরেকটি ইয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম (২৫) ও আবদুল খালেক (২৭) নামে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে আড়াইটার দিকে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের শরীর থেকে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং অন্যজনের শরীরেও হালকা আঘাতের চিহ্ন আছে।

ঘটনার পর কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন বলেন, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে একটি জাহাজ ভেড়ানোর সূচি ছিল। এ কারণে শ্রমিকেরা ভোররাত থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় দুটি কালো বোটে করে একদল ডাকাত ইয়ার্ডের দিকে আসতে দেখে শ্রমিকেরা তাদের ধাওয়া দেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ইয়ার্ড থেকে অন্য একটি নৌকা গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে উদ্ধার করা হলেও দুজন পানিতে তলিয়ে যান। পরবর্তীতে কয়েকশ মিটার দূরে একটি ইয়ার্ডের সামনে থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তবে কারখানার কর্মকর্তা জেলা ও শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কারখানাটিতে ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত জাপান থেকে একটি জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের জন্য রাতে শিপইয়ার্ডে আসার কথা। শিপইয়ার্ড থেকে দুটি বোট জাহাজটিকে এগিয়ে আনতে যায়। এর মধ্যে একটি দিকনির্দেশনার জন্য। অন্যটিতে কিছু প্রয়োজনীয় মালামাল ছিল। বড় জাহাজটি শিপইয়ার্ডে পৌঁছার আগে ঘন কুয়াশার কারণে একটি বোট দেখতে পায়নি। এতে বড় জাহাজের নিচে একটি বোট তলিয়ে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিলসের একটি জরিপে ওঠে আসে, ২০২৫ সালে জাহাজভাঙা খাতে মোট ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৫৮ জন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন, মারাত্মক আহত হয়েছেন ৩১ জন এবং হালকা আহত হয়েছেন ১৫ জন। চারটি ঘটনায় একাধিক শ্রমিক একসঙ্গে আহত হন।