ঈদগাঁওয়ে সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ বহাল তবিয়তে

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও,কক্সবাজার: কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে জাফর আলম নামে এক নিরীহ সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের এক সপ্তাহ পার হলেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তারা বহাল তবিয়তেই ঈদগাঁও থানায় কর্মরত থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সিএনজি চালক জাফর আলমের স্ত্রী রাফিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রধান অভিযুক্ত এসআই বদিউল আলম কর্তৃক তার স্বামীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ভিডিও ফুটেজ গত ২৫ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা এলাকায় পৌঁছানোর আগেই এক পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা ও সমঝোতার প্রস্তাব দেন এবং এসআই বদিউল আলমের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য চাপ দেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে না পারলে আমাদেরও স্বামীর মতো ভয়ংকর ঘটনায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কায় আমরা আতঙ্কে আছি।

এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত এসআই বদিউল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ভিডিও ফুটেজে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নিরীহ সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাওয়ার পরও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় ঈদগাঁও উপজেলার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—ভিডিও ফুটেজের পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আর কী প্রমাণের প্রয়োজন?

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছেন। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আমি জানি না।

তবে, তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহমেদ পেয়ার জানান, ‘বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর সকালে যাত্রী সেজে এক পুলিশ সোর্স ঈদগাঁও বাসস্টেশন থেকে কক্সবাজারমুখী একটি সিএনজিতে ওঠে। সিএনজি একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছালে ওই যাত্রী চালককে পানির বোতল আনতে পাঠান। এ সুযোগে সে নিজের ব্যাগ থেকে অস্ত্র সদৃশ বস্তু সিএনজিতে রেখে নেমে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা সিভিল পোশাকধারী এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে চলে যায়।

পানি নিয়ে ফিরে এসে যাত্রীকে না পেয়ে চালক এদিক-সেদিক তাকানোর সময় পুলিশ সদস্যরা কোনো রকম অভিযোগ ছাড়াই তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করেন। কিছুক্ষণ পর সিএনজি থেকে একটি ব্যাগ বের করে সেখান থেকে অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক চালকের হাতে ধরিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ছবি তোলা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ২৫ ডিসেম্বর এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হলে তা দেশজুড়ে ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।

অভিযোগ উঠেছে, কয়েক মাস আগে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম গজালিয়া এলাকায় জাফর আলমের স্কুলপড়ুয়া কন্যাদের ইভটিজিংয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলার জেরে আসামিপক্ষ প্রতিশোধ নিতে এসআই বদিউল আলম ও কনস্টেবল তানভীরকে দুই লাখ টাকার চুক্তিতে জাফর আলমকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ব্যবস্থা করে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই বদিউল আলম ও কনস্টেবল তানভীরের বিরুদ্ধে ২৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাফর আলমের স্ত্রী রাফিয়া আক্তার।