মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্যাগ, সক্রিয়তা ও দেশপ্রেমের কারণে শহীদ রুমীর মা পরিণত হন শহীদ জননীতে

জাহানারা ইমাম’র মৃত্যুবার্ষিকীতে নির্মূল কমিটি, চট্টগ্রামের আলোচনা সভায় শওকত বাঙালি

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং যুদ্ধাপরাধ বিরোধী আন্দোলনের পুরোগামী নেত্রী শহীদজননী জাহানারা ইমাম-এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনোপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে তাঁরই হাতে গড়া সংগঠন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, চট্টগ্রাম জেলা। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো শহীদ জননীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, নিবেদিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি এবং আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, একটি দেশের জন্য এমন কিছু নেই যা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম করেননি! তিনি তার সন্তান শাফী ইমাম রুমীকে বিলিয়ে দিয়েছেন মাতৃভূমির জন্য। তিনি হারিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গীকেও। কেবল তাই নয়, সারাজীবন বারবার প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তিনি ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল। এগিয়ে চলেছেন নিজে, একটি জাতিকে দিয়েছেন এগিয়ে চলার প্রেরণা।
২৬ জুন, বিকেল ৫টায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের তৃতীয় তলায় চট্টলবন্ধু এসএম জামাল উদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজনে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক প্রফেসর ড. আলা উদ্দিন।
চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ-এর উপদেষ্টা দীপংকর চৌধুরী কাজলের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সম্পাদক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অলিদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবা আহসান, সহ-সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম জাবেদুল আলম সুমন, সুমন চৌধুরী, এম.এ মান্নান শিমুল, মিথুন মল্লিক, সূচিত্রা গুহ টুম্পা, মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন আওরঙ্গঁজেব (আঙুর), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু সুফিয়ান, রাহুল দত্ত, মাহমুদুল করিম, মরিয়ম আক্তার মুক্তা, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুবেল পাল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষিকা সৈয়দা তাহমীনা সুলতানা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা লিমা, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক আহমেদ কুতুব, সহ-প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, প্রকাশনা সম্পাদক রাজীব চৌধুরী রাজু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার অমিত পালিত অংকুর, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সাহাব উদ্দিন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক প্রণব দাশ, সহ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সৈকত দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিন্দ্য মজুমদার অথৈ, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অভিজিৎ দাশ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুমন শাহেদ সিদ্দিকী, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ শওকত উল ইসলাম খান, জয়নুদ্দীন আহম্মদ জয়, মোহাম্মদ আকতার হোছাইন, কাজী রোকনুজ্জামান রোকন, লুৎফর রহমান জুয়েল, অনিন্দ্য দেব, ইমন শীল, বাঁশখালী শাখার সভাপতি আইকর আইনজীবী শেখর দত্ত, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোছাইন, মো. আব্দুল কাদের, রাজিব কাদের, চুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি সাগরময় আচার্য প্রমুখ।
প্রধান আলোচক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে ভূমিকা রেখেছেন জাহানারা ইমাম। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর ছেলে শাফী ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। শুধু তাই নয়, তার স্বামী শরীফ ইমাম পাকিস্তানিদের নির্যাতনের শিকার হয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মারা যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্যাগ, সক্রিয়তা ও দেশপ্রেমের কারণে শহীদ রুমীর মা পরিণত হন শহীদ জননীতে।
প্রধান বক্তা প্রফেসর ড. আলা উদ্দিন বলেন, শহীদজননীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ‘একাত্তরের দিনগুলি’ মুক্তিযুদ্ধকালের এক অনন্য দলিল হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে বাংলা সাহিত্যে। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি ১৯৯০ সালে বাংলা একাডেমিতে পুরস্কার পান। ১৯৯৭ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন শহীদ জননী।
সভার শুরুতে শহীদজননীর স্মৃতির শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং স্মরণ সভা শেষে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।