শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ উপযোগী দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীরে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের পোনা ফোটানোর ধুম পড়েছে।
প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে । গত ২১ মে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হালদা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মা মাছ ডিমের নমুনা ছেড়ে। হালদা নদীতে মা মাছ ডিমের নমুনা ছাড়ার পর রাউজান হাটাহাজারীর ৬শত ১৬ জন ডিম সংগ্রহকারী ২শত ৮০টি নৌকা নিয়ে হালদা নদীতে জাল নিয়ে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার জন্য প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে জাল দিয়ে নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার জন্য নদীতে নেমে পড়ে।


গত২২ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতাটার সময় থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত হালদা নদীর নাপিতের ঘাট, পশ্চিম আবুর খীল, রামদাশ হাট, আমতোয়া, দক্ষিন মার্দ্রাসা ও মার্দ্রাসা , গড়দুয়ারা, মাছুয়া ঘোনা, আজমের ঘাট, মগদাই, কাগতিয়া, কাসেম নগর, পশ্চিম বিনাজুরী, সিপাহির ঘাট, দক্ষিন গহিরা, পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, উরকির চর এলাকায় হালদা নদী থেকে শত শত ডিম ষংগ্রহককারী নৌকা ও জাল দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে। ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করার পর হালদা নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ায় ও রাউজানের গহিরা মোবারক খীল, পশ্চিম গহিরা, হাটহাজারীর মদুনাঘাট, মাছুয়াঘোনা, মার্দ্রাসা এলঅকায় মৎস মন্ত্রনালয়ের নির্মানাধীন হ্যচাারী গুলেতে মা মাছের ডিম থেকে রেনু ফুটানোর কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন । রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেনায়েদ কবির সোহাগ ও রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর বলেন, হালদা নদী থেকে ৬শত ১৬ জন ডিম সংগ্রহকারী ২শত ৮০টি নৌকা দিয়ে হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫শত ৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করেন । গত বার বৎসরের মধ্যে এবার বেশি পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা মাছ হালদা নদীতে । রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর বলেন হালদা নদী থেকে সংগ্রহিত মা মাছের ডিম থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা হ্যচারী ও নদীর তীরে মাটির কুয়ায় ডিম থেকে রেুনু ফুটানোর কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছে। হালদা নদী থেকে সংগ্রহ করা ২৫ হাজার ৫শত ৩৬ কেজি মা মাছের ডিম থেকে এবার ১০ হাজার কেজি রেনু উৎপাদন হবে। প্রতি কেজি রেনু ৫০ হাজার টাকা করে ৫০ কোটি টাকার রেনু বিক্রয় হবে । হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে উৎপদিত রেনু দেশেরে বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকার মাছ চাষী ও মৎস হ্যচারীর মালিকেরা ক্রয় করে নিয়ে পুকুর, জলাশয়, মাছ চাষের প্রকল্পে ফেলে মাছ চাষ করে বিপুল পরিমান মাছ উৎপাদন করে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করবেন। গত বার বৎসরের মধ্যে এবার বেশী পরিমাণ ডিম ছেড়েছে হালদা নদীতে । রাউজানের পশ্চিম বিনাজুরী এলাকার ডিম সংগ্রহকারী দেবজিৎ বড়ুয়া দেবু বলেন, হালদা নদী থেকে ২০ বালতি ডিম সংগ্রহ করে । ডিম সংগ্রহকারী দেবজিৎবড়ুয়া তার সংগ্রহ করা ডিম রাউজানের গহিরা মোবারক খীল হ্যচারীতে ফুটানোর কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন । হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারার ডিম সংগ্রহকারী মোঃ ফোরকান বলেন, হালদা নদী থেকে ১৩ বালতি ডিম সংগ্রহ করেন । ডিম সংগ্রহকারী মোঃ ফোরকান তার সংগ্রহ করা মা মাছের ডিম তার বাড়ীর পাশবর্তী হালদা নদীর তীরে মাটির কুয়ায় রেখে ডিম ফুটানোর কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন । গতকাল ২৩ মে শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গহিরা মোবারক খীল হ্যচারীও গড়দুয়ারা, পশ্চিম গহিরা হ্যচারী পরিদর্শন কালে দেখা যায় ডিম সংগ্রহকারীরা হ্যচারীতে ডিম থেকে রেনু ফুটানোর কাজ করছেন । হ্যৗচারীতে ডিম থেবে রেনু ফুটানোর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনয়েদ কবির সোহাগ, রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার নিয়াজ মোরশেদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর, রাউজান উপজেলা মৎস সম্প্রসারণ অফিসার আবদুল্ল্যাহ আল মামুন । রাউজান উপজেলা মৎস সম্প্রসারণ অফিসার আবদুল্ল্রাহ আল মামুন বলেন গহিরা মোবারক খীল হ্যচারীতে ১৫ জন ডিম সংগ্রহকারী ১ হাজার ৩শত ২০ কেজি ডিম ফুটানোর কাজ করছেন । ডিম সংগহকারী জয়নাল বলেন, হালদা নদী থেকে ২টি নৌকা নিয়ে ১৬ বালতি মা মাছের ডিম সংগ্রহ করেন। ডিম সংগ্রহকারী জয়নাল গহিরা মোবারক খীল হ্যচারীতে মা মাছের ডিম ফুটানোর সময়ে তার ডিম নষ্ট হয়ে যায় । হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ মাছ প্রতি বৎসর প্রতি বৎসর চৈত্র মাস থেকে আষাঢ় মাস পযন্ত সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়ে । এ বৎসর চৈত্র ও বৈশাখ মাস চলে গেলে ও বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে ও হালদা নদীতে মা মাছ ডিম না ছাড়ায় ডিম সংগ্রহকারীরা হতাশ হয়ে পড়ে। গত ২২ মে ৮ জ্যৈষ্ট শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ছাড়লে ডিম সংগ্রহকারীরা আনন্দে উৎসবের মধ্যে দিয়ে হালদা নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করেন ।











