চট্টগ্রাম মহনাগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৩টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের ভোগ্যপন্য উপহার বিতরণ করলেন সিটি মেয়র
মহামারীকে জয় করে শ্রেষ্ঠতর দেশ পুনর্গঠনে মেধা ও মননকে কাজে লাগানোর এখনই উত্তম সময়-সিটি মেয়র
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া চলমান করোনাভাইরাস মহামারীকে জয় করে শ্রেষ্ঠতর দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের মেধা ও মননকে কাজে লাগানোর এটাই উত্তম সময়। আজ বুধবার সকালে নগরীর ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী, ১০নং উত্তর কাট্টলী ও ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণকালে মেয়র এইকথা বলেন । তিনি বলেন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে থাকেন। এই সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, আপনারা যাই করুন এই দু:সময়ে এবং রমজানকে সামনে রেখে এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকবেন বলে আমরা আশাবাদী। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাদ্যপণ্য মজুত ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ক্রেতাসাধারণকে ঠকিয়ে ও সংকটের আবহ সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অমানবিক, ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার শামিল। এমন পরিস্থিতি দেশের সীমিত আয়ের মানুষের জনজীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন বিবেকহীন ও অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের কারণে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে। এহেন মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বাজার-প্রক্রিয়াকে রক্ষার জন্য ইসলাম মজুতদারি, মুনাফাখোরি, ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার মতো কার্যক্রমকে অবৈধ ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের আহবান জানান মেয়র। তিনি বলেন, প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্বেও সাধারণ মানুষ একশ্রেণির অসাধু মজুতদার ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। মেয়র বাজারে খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী মজুতদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,ব্যবসা-বাণিজ্যে মূল্যপ্রবাহকে কেউ যেন ঊর্ধ্বমুখী করে না তোলে, সে ক্ষেত্রে সরকার কঠোর নজরদারীতে রেখেছে। এ জন্য সমাজের প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ীকে সৎমনোভাবাপন্ন, নির্লোভ, মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনার পরামর্শ দেন মেয়র। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই করোনা মহামারি থেকে মুক্তি লাভকে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্য সম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আরও সহিষ্ণু পৃথিবীর ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, এই মহামারীর করুন পরিণতি সরকারের একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে অসচ্ছলদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরকেই সরকার প্রণীত বিধি মেনে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শ্রী চন্দন ধর,বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী,ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ হোসেন,নির্বাহী সদস্য ও আহবায়ক ড.নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহম্মদ, আকবরশাহ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সুলতান আহমদ চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক কাজী আলতাফ হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এস এম আলমগীর, এরশাদ মামুন, গিয়াস উদ্দিন জুয়েল, ইকবাল চৌধুরী, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, নুরুল আমিন কালু, মহিলা কাউন্সিলর আবিদা আজাদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।











