ব্যাংক লোন নিয়ে ৮৫০ প্যারামেডিকে মোট বেতনের কিছু অংশ পরিশোধ করা শুরু করেছে গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। কেউ বেতন পেয়েছেন এক মাসের, কেউবা দু’মাসের। অর্থাভাবে তাদের বেতন দিতে পারছিল না গণস্বাস্থ্য। বেতন না পেয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় ৮৫০ প্যারামেডিক
গত চৈত্র মাস থেকে বেতন আটকে ছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্যারামেডিকদের। চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় শেষ হয়ে এখন চলছে শ্রাবণ মাস। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের ৫ তারিখ (২০ জুলাই) অধিকাংশ প্যারামেডিকদের চৈত্র ও বৈশাখ দু’মাসের বেতন পরিশোধ করেছে গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
অর্থ সংকটে বেতন দিতে দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র পরিচালক (গ্রামীণ স্বাস্থ্য) ডা. এ কে এম রেজা।
তিনি বলেন, আমাদের ফান্ডিংয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা ব্যাংক লোন নিয়ে এ প্যারামেডিকদের দু‘মাসের বেতন পরিশোধ করছি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বাংলা ক্যালেন্ডার মেনে চলে। বেতন থেকে শুরু করে তারা বাংলা মাস মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করে।
জানা যায়, সারা দেশে গণস্বাস্থ্যের প্রায় অর্ধ-শতাধিক সাবসেন্টার, হাসপাতাল, ডায়ালাইসিস সেন্টারে ৮৫০ জন প্যারামেডিক সেবা দিচ্ছেন। এ করোনাকালীন তারা বেতন থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিল। সবশেষে সোমবার (২০ জুলাই) থেকে তাদের দু’মাসের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে ঈদের আগে আর কোনো বেতন পরিশোধের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন ডা. রেজা।
তবে কেউ কেউ দু’মাসের বেতন পেলেও প্যারামেডিকদের একাংশ যেমন সাভার স্বাস্থ্য কার্যক্রমের অধীনস্থ প্যারামেডিকরা এক মাসের বেতন পেয়েছেন শুধু।
এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাভার স্বাস্থ্য কার্যক্রমের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, তার অধীনে শতাধিক (১০৫ জন) প্যারামেডিকের এক মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাকি এক মাসের বেতনও ঈদের আগেই দেওয়া হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বেতন দিতে হেরফের হয়েছে।
সাভার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, যারা এক মাসের বেতন পেয়েছে তাদের ঈদের আগে আরও এক মাসের বেতন দেওয়া হবে।
সে হিসাবে যারা দু’মাসের বেতন পাচ্ছেন তাদের আরও দু’মাসের বেতন বাকি এবং যারা এক মাসের পাবেন তাদের আরও চার মাসের বেতন বাকি থাকছে।
এর আগে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে কোরবানির ঈদের আগে দু’মাসের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় কর্তৃপক্ষ।











