শফিউল আলম, রাউজান: হালদা নদী ভাঙ্গনে হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া, গড়দুয়ারা, বাড়ীঘোনা রাউজানের সাথে মিলিত রাউজানের পশ্চিম কোতোয়ালী ঘোনার একাংশ হাটহাজারীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। হালদা নদীর ভাঙ্গনে হাটহাজারী উপজেলার লাঙ্গল মোড়া ইউনিয়নের লাঙ্গল মোড়া এলাকার শতাধিক পরিবারের বসতঘর ফসলী জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। লাঙ্গলমোড়া ইইউনিয়নের একাংশ নদীতে বিলিন হয়ে রাউজান উপজেলার পশ্চিম নদীম পুর, পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকায় চর উঠেছে।

হালদা নদীতে বিলিন হওয়া লাঙ্গলমোড়া এলাকার বাসিন্দারা রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নদীম পুর এলাকার সাথে হালদা নদীর ভাঙ্গনে জেগে উঠা চরের জমি তাদের পূর্ব পুরুষের মালিকানা জমি হিসাবে চিহ্নিত করে অর্ধ শতাধিক পরিবার বসতবাড়ী নির্মান করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে কয়েক যুগ ধরে। হালদা নদীর ভাঙ্গনে লাঙ্গলমোড়া এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবারের ছেলে মেয়ে প্রতিদিন হালদা নদীর লাঙ্গলমোড়া বাজার ও রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নদীম পুর, ফতেহ নগর এলাকার হালদা নদীর উপর বাশের তৈয়ারী সাকোঁ দিয়ে পারপার হয়ে লাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসায় এসে লেখাপড়া করেন। হাটহাজারী থেকে বিচ্ছিন হয়ে পাড়া লাঙ্গলমোড়া এলাকার বাসিন্দ্বারা অনেকেই হালদা নদীর উপর বাশের সাকোঁ দিয়ে পারাপার হয়ে লাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ, লাঙ্গলমোড়া বাজার, সরকার হাট, হাটহাজারী উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। হাটহাজারী থেকে বিচ্ছিন লাঙ্গল মোড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের নদীম পুর হয়ে ইছাপুর সড়ক দিয়ে গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা হয়ে রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরা ব্রীকফিল্ড রাস্তার মাথা হয়ে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে হাটহাজারী উপজেলা সদরে সিএনজি অটোিিরক্সা, বাস মোটর স্ইাকেল করে যাতায়াত করেন। রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের পশ্চিম কোতোয়ালী ঘোনা এলাকায় হালদা নদীর ভাঙ্গনে মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী প্রকাশ মাঝের বাড়ীর একাংশ হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের সাথে চওলে যায় । শতাধিক পরিবারের বাসিন্দা রাউজানের হলে ও তারা চলাফেরা করেন ছিপাতলী ইউনিয়নের এলাকা হয়ে হটাহাজারীর ইছাপুর বাজারে উঠে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে গহিরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, রাউজান উপজেলা সদর, হাটহাজারী চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করেন। রাউজানের গহিরা ইউনিয়নের পশ্চিম দলই নগর, রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরা ইছাপুর সড়কে ইছাপুর সেতুর উত্তর ও পশ্চিম পাশে হালদা নদীর ভাঙ্গনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে হাটহাজারীর মেখল এলাকার ৩০টি পরিবার হাটহাজারী থেকে বিচ্ছিন হয়ে রাউজান অংশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। তারা ইছাপুর সড়ক হয়ে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে হাটহাজারী উপজেলা সদর ও মেখল ইইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করেন। হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গড়দুয়ারার একাংশ হালদা নদীর বার্ক কেটে দেওয়ার পর নদীর গতি পরিবর্তন হয়ে পড়লে রাউজান পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিন গহিরা মোবারকখীলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। হাটহাজারী থেকে বিচ্ছিন হয়ে যাওয়া গড়দুয়ারার শতাধিক পরিবারের ছেলে মেয়েরা দক্ষিন গহিরা খান সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়, গহিরা উচ্চ বিদ্যালয়, গহিরা কলেজে লেখাপাড়া করেন। পাশে, হালদা নদীর হয়ে হাটহাজারী থেকে বিচ্ছিন হয়ে যাওয়া গড়দুয়ারার শতাধিক পরিবারের সদস্যরা বাড়ীর পাশে সিপাহির ঘাট দিয়ে নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে গড়দুয়ারা ও হাটহাজারী সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়া ও রাউজান পৌরসভার গহিরা দিয়ে স্এিনজি অটোরিক্সা ও বাসে করে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে হাটহাজারী সদর ও চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করেন।
হালদা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে হাটহাজারী উপজেলার মাদ্রাসা ইউনিয়নের বাড়িঘোনা এলাকা। বাড়িঘোনা এলাকা রাউজান উপজেলা উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর, পশ্চিম আবুর খীল, খলিফার ঘোনার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে । হাটহাজারী থেকে বিচ্ছিন হয়ে যাওয়া বাড়িঘোনা এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের ছেলে মেয়েরা উরকিরচর উচ্চ বিদ্যালয়, উরকিরচর মোহাম্মািদয়া মার্দ্রাসা, আবুর খীল অমিতাভ উচ্চ বিদ্যালয়, আশালতা কলেজ, নোয়াপাড়া কলেজে লেখপাড়া করে আসছে। বাড়ীঘোনা এলাকার বাসিন্দারা রাউজানের পশ্চিম আবুর খীল, উরকিরচর হয়ে মদুনাঘাট এলাকায় এসে চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক দিয়ে যানবাহনে করে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করেন। বাড়িঘোনা এলাকার বাসিন্দারা রাউজানের উরকিরচর মদুনাঘাট হয়ে নিজ ইউনিয়ন মার্দ্রাসা ও হাটহাজারী উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন সিএনজি অটোরিক্সা, মোটর স্ইাকেল করে।
হাটহাজারী লাঙ্গল মোড়া ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া এলাকার বাসিন্দা খায়ের আহম্মদ বলেন, হালদার ভাঙ্গনে বাপ দাদার পৈতৃক বসতভিটা ঘর ফসলী জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। হালদার ভাঙ্গনে সব কিছু হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে নদীর ঐ পাড়ে জেগে উঠা চর। ঐ চরের জমি আমাদের ঐ খানে বসতঘর নির্মান করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি।
হালাদা নদীর ভাঙ্গনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে রাউজানের গহিরা ইউনিয়নের পশ্চিম কোতোয়ালী ঘোনা এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর বাড়ীর একাংশ হাটহাজারীর ছিপাতলীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়া, ছিপাতলীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়া এলাকার বাসিন্দা বাবর বলেন, হালদা নদীর ভাঙ্গনে আমরা শতাধিক পরিবার রাউজানের গহিরা থেকে বিচ্ছিন হয়ে পড়েছি। আমরা হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী হয়ে হাটহাজারীর ইছাপুর বাজার উঠে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে সিএনজি অটোরিক্সা বাসে করে রাউজানের গহিরা রাউজান উপজেলা সদরে যাতায়াত করে আসছি। হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ বলেন, হালদা নদীর ভাঙ্গন ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে রাউজান সীমান্তে বসবাসকারী হাটহাজারীর বাসিন্দা। তাদেরকে সরকারী সকল সহায়তা প্রদান করছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।












