রাউজানে বন্ধ হচ্ছে না সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড, থামছে না স্বজন হারানো পরিবারের আহাজারী

শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলা জ্ঞানী গুনি, কবি সাহিত্যিক, পীর আউলিয়াদের জম্মভুমি। জ্ঞানী গুণি ব্যক্তিদের জম্মভুমি রাউজান সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে দেশ ও দেশের বাইরে পরিচিতি লাভ করেছে।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ায় রাউজানের সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত চরম আতংকের মধ্যে দিন যাপন করে আসছে। রাজনৈতিক দলের আধিপত্যকে বিস্তার করে যুগ ুযুগ ধরে চলছে হানাহানী, একের পর এক হত্যাকান্ড। হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে বৃদ্ব থেকে শুরু করে যুবক, ছাত্র, তরুন, প্রবাসী, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্বা, ব্যবসায়ী। রাউজানে ১৯৮৬ সালে গহিরা কলেজের ছাত্র, ছাত্রলীগ নেতা ফয়েজুল আলম খান ফারুক রাউজান কলেজে পরিক্ষা কেন্দ্রে ডিগ্রী পরিক্ষা দিয়ে বাড়ী ফৈরার পথে প্রকাশ্য ািদবালোকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের লালিত সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। এরপর থেকে রাউজানের হলদিয়ায় খুন হয়. ছাত্রলীগ নেতা ফখরুউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, মুজিবুর রহমান পেয়ারু, শিক্ষক ইদ্রিস মাস্ট্রার, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার, ছাত্রলীগ নেতা এমদাদ, এনডিপি নেতা এজাহার মিয়া প্রকাশ এজাহার বৈদ্য মেম্বার, আবদুল মোনাফ, ডাবুয়ায় খুন হয় ছাত্রলীগ নেতা দিদারুল আলম, শফিউল আালম বাচুরিয়া, টিটু, বিটু,্ স্মরন বড়ুয়া, এনডিপির শোনইক্যা, আবদুল শুক্কুর, খোরশদুল আলম। চিকদাইরে খুন হয় ছাত্রলীগ নেতা মোঃ রফিক, কবিরাজ মিলন চৌধুরী, মিয়া, নোয়জিশপুরে খুন হয় যুবলীগ নেতা আবুল কাসেম বল্ল্যাইয়া, রাউজান পৌরসভায় খুন হয় পশ্চিম গহিরা ছাত্রলীগ নেতা আসলাম, মোবারক খীলের এনডিপি নেতা মনসুর, গহিরার মনাইয়্যা,পুর্ব গহিরার মিলন চৌধুরী, সুলতানপুরের মেকানিক জাবেদ, পৌর কাউন্সিলর এসকান্দর হোসেন চৌধুরী, আলমগীর, মুক্তিযোদ্বা নিহার কান্তি বিশ^াস মন্টু, এনডিপির জামাল পাশা, রাউজান পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মোটর সাইকেল মেকানিক বোবা নাসির,মাহবুল আলম, বিনাজুরীতে খুন হয় ছাত্রলীগ নেতা আশিষ বড়ুয়া, সমির মুহুরী, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের হরিশখান পাড়ায় খুন হয় ফজল হক, গিয়াস, ব্যবসায়ী শাহ আলম, খলিলাবাদের আবদুল হালিম, সোহাম্মদপুরের নিজাম উদ্দিন, আকতার হোসেন মেম্বার, রাউজানের কদলপুরে খুন হয় মেধাবী ছাত্র ওমর ফারুক, আকতার হোসেন, খোরশেদ আলম বাইল্যা, গিয়াস উদ্দিন বাইল্যা তোতা, আরিফ বিল্ল্রাহ, ওসমান। পাহড়তলীতে খুন হয় ছাত্রলীগ নেতা মহরম। বাগোয়ানের গশ্চিতে খুন হয় ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন, অমৃত তালুকদার, কৃষ্ণ দত্ত, মোহাম্মদ মিয়া, নাসিম, এনডিপির আলিমুল্ল্রাহ, পুর্ব গুজরা ইউনিয়নে খুন হয় বড়ঠাকুর পাড়ার যুব লীগ নেতা জাহাঙ্গীর. মানিক, চেয়ারম্যান আকতার হোসেন রাজু, ফেরদৌস আলম মাস্ট্রার, মেম্বার প্রদীপ সেন, আবুল কাসেম, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে খুন হয় কাগতিয়ার ননাইয়া, মগদাইয়ের সাবের, টুক্কুল মেম্বার, চেয়ারম্যান আবু তাহের, শ্রমিক নেতা কামাল, আবুল কাসেম জামাই, উরকিরচরে খুন হয় ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ, এনডিপির ইউসুফ, নোয়াপাড়া ইউনিয়নে খুন হয় চেয়ারম্যান মুক্তযোদ্বা খায়েজ আহম্মদ, ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ, ছাত্রলীগ নেতা সোহেল. রিটন. যুবলীগ নেতা মোবারক, খোরশেদ, আবদুল হামিদ কাদাইয়্যা, এনডিপির আবদুল লতিফ. ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরু। গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে ১৯ মাসে রাউজানে ২১ খুনের ঘটনা সংগঠিত হয়। ত্ার মধ্যে রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়াডর্েূর ঢালার মুখ এলাকার মোঃ আলম. রিদোয়ান, চারাবটতল বাজারের নৈশ প্রহরী শফিউল আলম, মোঃ” ইউসুফ, পুর্ব রাউজানের ইব্রাহিম, কদলপুরের সেলিম, বাগোয়ানের ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম, যুবদল নেতা মামুন, নোয়াপাড়ার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, যুবলীগ নেতা হাসান, আধাার মানিকের যুবদল নেতা জানে আলম, মুজিব, চিকদাইরের মাওলানা আবু তাহের, হলদিয়ার নুরুল আলম বকুল, যুবদল নেতা যুবদল নেতা কমর উদ্দিন জিতু, মো. জাফর, ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মানিক, যুবদল নেতা নুরুল আলম, যুবদল কর্মী ইব্রাহিম জিতু সহ ২১ টি খুনের ঘটনা সংগঠিত হয় ।

সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার সন্দ্বায় ইফতারের পর র্পুব গুজরা ইউনিয়নের অলি মিয়ার হাটে প্রকাশ্যে দিবালোকে যুবদল নেতা মুজিবকে গুলি করে হত্যা করে দুবৃত্তরা। প্রকাশ্য দিবালোকে এসব হত্যা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিব্রত হয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়ে ছিল। কিন্ত রক্তের হেলি খেলা বন্ধ করতে পারেনি কোন রাজনৈতিক নেতা বা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। ২২ ফেব্রুয়ারী দক্ষিণ রাউজানের নেয়াপাড়া পথের হাটে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী কঠোর বার্তা দিয়েছেন রাউজানে অস্ত্রের ঝরঝরানি চলবে না। যেকোনো ভাবে বন্ধ করব সন্ত্রাস নৈরাজ্য। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর আবারও খুনের ঘটনা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে আলোচিত এ উপজেলায়। রাউজানে একের পর এক খুনের ঘটনা সংগঠিত হলে ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মুল অপরাধীরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। সন্ত্রাসের জনপদ রাউজানে স্বজন হাারানো পরিবারের আহাজারী থামছেনা। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, যুবদলনেতা মুজিব হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মুজিব হত্যার ঘটনায় মুজিবের স্ত্রী শাহানাজ আকতার বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেছেন।