রাউজানে নকল পণ্যদ্রব্যের কারখানা সিলগালা, আটক ৫

শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা নোয়াপাড়া পথেরহাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল নুডলস, ‘ট্যাং’ সদৃশ সফট ড্রিংক পাউডার ও টেস্টি স্যালাইন উৎপাদন এবং প্যাকেটজাত করার অভিযোগে একটি কারখানা সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় উৎপাদন কার্যক্রমে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন মিয়া মার্কেটের পেছনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ রেখে ভাড়া নেওয়া দোকানের ভেতরে বিশাল পরিসরে চলছিল এসব পণ্যের উৎপাদন ও মোড়কজাত কার্যক্রম। আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বাজারজাতের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে এসব পণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল বলে জানা যায়।অভিযানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মোড়কে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর লোগো ব্যবহার করা হলেও কোনো বৈধ অনুমোদন বা সনদ নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনবিহীন এসব পণ্য উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করার দায়ে কারখানাটি তাৎক্ষণিক সিলগালা করা হয়। মালিক ও ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকায় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের সফট ড্রিংক পাউডার, নুডলস ও স্যালাইন তৈরি করা হচ্ছিল। কোনো পণ্যেরই বৈধ নিবন্ধন বা হালনাগাদ সনদ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বিএসটিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক (মেট্রোলজি) সাঈদ আহমেদ তালুকদার বলেন, সফট ড্রিংক পাউডারের সনদ হালনাগাদ ছিল না, নুডলসের কোনো সনদই নেই। তদুপরি কোনো পণ্যের মোড়কজাত নিবন্ধন সনদও পাওয়া যায়নি।অভিযানে রাউজান থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস) মো. নাসির উদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমান প্রমুখ।মিয়া মার্কেটের মালিক মো. আক্তার জানান, প্রায় চার বছর আগে দোকানসহ পেছনের অংশটি নোয়াপাড়া কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ সৈয়দ উদ্দিন আহমেদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। তিনি ও তার ভাই কামাল উদ্দিন টুটুল কারখানাটি পরিচালনা করতেন বলে দাবি করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ উদ্দিন আহমেদ (রাউজান উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক) মুঠোফোনে বলেন, তিনি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নন এবং অনেক আগেই সংশ্লিষ্টতা ত্যাগ করেছেন। তার দাবি, অন্যরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকতে পারেন।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।