শফিউল আলম, রাউজান ঃ রাউজানে দুটি মন্দির চুরি আরো একটি বসতঘরের দরজার বাইরে হুক লাগিয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে বসতঘর মালামাল পুড়ে ছাই ।চট্টগ্রামের রাউজানে এক রাতে দুটি মন্দির চুরির ঘটনা ঘটেছে।
২১ ডিসেম্বর (রবিবার) দিবাগত গভীর রাতে রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়।

২২ ডিসেম্বর (সোমবার) দিবাগত রাতেই রাউজান পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর বলিক পাড়ায় সুলাল শীলের ঘরের দরজার বাইর থেকে হুক লাগিয়ে দিয়ে দুবৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে সুলাল শীল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘর থেকে বের হতে চাইলে, ঘরের দরজা বাইর থেকে বন্দ্ব করে দেওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তৎক্ষাৎ সুলাল শীল ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। সুলাল শীল ও তার পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা গভির রাতে ঘুম থেকে উঠে ছুটে আসলে ও ঐ সময়ে ঘর ও ঘরের মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত কয়েকদিন পুর্বে রাউজান ইউনিয়নের কেউটিয়া, রাউজান পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ঢেউয়া পাড়ায় সনাতনী ধর্মীয় অনুসারীদের কয়েকটি বসত ঘরের বাইর থেকে দরজার হুক লাগিয়ে দিয়ে দুবৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা সংগঠিত হয়। অপরদিকে নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দুলাল ডাক্তারের বাড়ি ও রবীন্দ্র ডাক্তার বাড়িতে পৃথক তালা ভেঙে মন্দির চুরির ঘটনা গুলো ঘটে। সেখান থেকে ৪টি ঘট, ঘটের স্বর্ণ, ২টি পিতলের মূর্তি, পিতলের কাসা-ঘন্টা, পিতলের ২টি থালা, শরি ২, দানবক্সের টাকাসহ প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকার সামগ্রী চুরি হয়। একই রাতে একই এলাকায় প্রস্তাবিত সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব মন্দিরের তালা ভেঙে, ৩টি পিতলেত ঘট ও দানবক্সের টাকা মিলে ৫-৬ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর শনিবার রাতে একই ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মগদেশ্বরী মন্দিরেও চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়। সেখান থেকে বড় পিতলের ঘট ও দানবক্সের টাকা মিলে প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরের দল। স্থানীয় সুজন রায় ও তপন নামে দুই ব্যক্তি বলেন, গত কয়েকেদিনের ব্যবধানে আমাদের এলাকার তিনটি মন্দির চুরির ঘটনা ঘটেছে। তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা লিখিত অভিযোগ বা মামলা করি নাই। তবে সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি সাহেব আসার কথা রয়েছে। উনার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন মন্দির চুরি ও আগুন লাগানোর ঘটনার সাথে জড়িত কারা তা তদন্ত করে তাদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।












