পতেঙ্গায় যুবক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

পতেঙ্গা থানার সমুদ্রসৈকত এলাকায় মোটরসাইকেলের বিকট আওয়াজ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মো মনিরুজ্জামান রাফি (২৬) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা উঠতি বয়সের তরুণ। তারা পাড়া-মহল্লার অপরাধী চক্র হিসেবে পরিচিত কথিত ‘কিশোর গ্যাংয়ের’সদস্য।

সোমবার (১০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলো, জাহিদুল ইসলাম (২২), মোবারক হোসেন (২৩), ইকবাল হোসেন ইমন (২২), শাহরিয়ার আল আহমেদ (২০), তাহরিয়ার আহমেদ বাঁধন (২০), মারুফ চৌধুরী (২১) ও জুবায়ের বাশার (৩৪)। এর আগে, রোববার (৯ জুন) ভোরে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন টানেলের প্রবেশমুখে গোলচত্বরে মোটরসাইকেলের উচ্চ শব্দ নিয়ে তরুণদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি লাগে। মারামারির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন মনিরুজ্জামান রাফি (২৫) ও রায়হান নামে রাফির এক বন্ধুও গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শাকিলা সোলতানা জানান, গভীর রাতে দুটি গ্রুপ পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে সৈকতের গোলচত্বর এলাকায় মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পাইপে শব্দ করাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ৪ থেকে ৫ জনের যে গ্রুপটি ছিল তাদের ওপর ১০ থেকে ১৫ জনের একটি গ্রুপ হামলা করে। তাদের কাছে ছুরিও ছিল। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে আহত ভিকটিম মনিরুজ্জামান রাফি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

তিনি আরও জানান, এটি তাৎক্ষণিক সৃষ্ট একটি ঘটনা। দুপক্ষই ঝগড়া করেছে। এ ঘটনায় আমরা হালিশহর, বন্দর, পতেঙ্গা ও কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাফি খুনের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের হত্যাকাণ্ড ধরে নেওয়া যায়। কারণ যারা এ কাজ করেছে তারা প্রায়ই অনেকেই সদ্য কৈশোর পার করা উঠতি বয়সের তরুণ। এরা গভীর রাতে কিংবা ভোরে মোটর সাইকেল নিয়ে বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরি করে। তারা বীচে গিয়ে মারামারি করবে, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।