প্রথম বিদেশি অপারেটরের অধীনে পিসিটিতে ভিড়েছে বাণিজ্যিক জাহাজ

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি অপারেটরের অধীনে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) ভিড়েছে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি মায়েরস্ক দাভাও (MAERSK DAVAO)।

সোমবার (১০ জুন) বিকেল তিনটায় রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) পরিচালিত পিসিটিতে জাহাজটি ভিড়ে।
এর মধ্য দিয়ে পিসিটির অপারেশন কার্যক্রম শুরু হলো।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলসহ বন্দর, আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। এরপর প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়লো এ টার্মিনালের জেটিতে। নিজস্ব ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে আরএসজিটির চট্টগ্রাম টার্মিনালে প্রায় আটশ টিইইউস রপ্তানি পণ্য বোঝাই ও খালি কনটেইনার লোড-আনলোড করে ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক আরএসজিটিআইর অধিভুক্ত আরএসজিটি। আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর, যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত। যা সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। বছরে ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস হ্যান্ডলিং করে থাকে।

৫৮০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার ড্রাফটের পিসিটিতে একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। পিসিটি ও সাউথ কনটেইনার ইয়ার্ড মিলে ২ লাখ ৮ হাজার বর্গমিটার। পিসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি উন্নত উচ্চক্ষমতার শিপ টু শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) ও আধুনিক হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হবে। যা টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা আড়াই লাখ টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বাড়াবে।

এরউইন হেইজ বলেন, আমরা ক্যাপ্টেন মায়ো মিন থান এবং মায়েরস্ক দাভাওকে আরএসজিটি-চট্টগ্রামে স্বাগত জানাতে পেরে গর্বিত এবং এই নতুন কনসেশন চুক্তির অধীনে প্রথম আনুষ্ঠানিক জাহাজ আগমনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপন করছি। আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এবং বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইনে চট্টগ্রাম বন্দরের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বাড়াতে অবদান রাখতে উন্মুখ। আমরা বাংলাদেশ সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনবিআর, কাস্টমস এবং আমাদের দীর্ঘসময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার মায়েরস্ককে ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের বাংলাদেশের শিপিং কমিউনিটি এবং বৈশ্বিক বন্দর শিল্পকে বিশ্বমানের সেবা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ঐতিহাসিক দিন। চট্টগ্রাম বন্দরের বয়স ১৩৭ বছর। এ দীর্ঘ পথচলায় প্রথমবারের মতো একটি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটর গ্লোবালি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়েকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে আগামী ২২ বছর টার্মিনালটি তারা অপারেট করবে। এ অপারেশন কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে তথা চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে একটি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় আজ প্রথম জাহাজ ভিড়েছে।

এ মুহূর্ত চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। আশাকরি, এভাবে বিদেশি গ্লোবালি বড় বড় পার্টনারদের সঙ্গে আমরা কাজ করবো। যাতে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার অনেকগুণ বেড়ে যাবে। আমাদের অনেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। নতুন প্রযুক্তি এখানে আসছে। আরও আসবে। প্রযুক্তিগতভাবে আমরা লাভবান হবো। এখানে কাজ করে আমাদের লোকজন দক্ষ হবে। দেশে বিদেশে তাদের চাহিদা বেড়ে যাবে। ল্যান্ডলর্ড প্রক্রিয়ায় বন্দর চলে বিশ্বজুড়ে। আমরা পিসিটি দিয়ে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আজ থেকে পুরোদমে এ টার্মিনালের কাজ শুরু হলো।

রেড সি গেটওয়ে পিসিটিতে দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। রেভিনিউর একটি বড় অংশ শেয়ার করবে। সব ইক্যুইপমেন্ট তাদের নিজস্ব। ২২ বছর পর সব ইক্যুইপমেন্ট আমাদের বন্দরের হয়ে যাবে। বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া সাধারণ বিষয়। এর ফলে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা বাড়বে, সেবা বাড়বে, রেভিনিউ কালেকশন বাড়বে।