টেকনাফ সীমান্তে ফের মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণ

শামসু উদ্দীন, টেকনাফ:
টেকনাফ সীমান্তে ফের মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানা যায়। টেকনাফ থেকে নৌপথে সেন্টমার্টিনগামী পণ্যবাহী একটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের এ ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ট্রলারটির বিভিন্ন স্থানে সাতটি গুলি লেগেছে বলে জানা যায়। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে ফের গুলিবর্ষনের ঘটনায় সীমান্তÍবর্তী বাসিন্দারা চরম আতংকে রয়েছে।
শনিবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে নাফনদীর বদরমোকাম মোহনায় নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খাল থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী ভর্তি করে এসবি রাফিয়া নামে একটি পণ্যবাহী ট্রলার চারজন মাঝিমাল্লাসহ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ট্রলারটি প্রায় ঘণ্টা-দেড়েক চালানোর পরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথের বদরমোকাম নাম এলাকায় পৌঁছালে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়ার ওপার থেকে ট্রলারের দিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। তখন ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা প্রাণ বাঁচাতে শুয়ে পড়েন। এসময় ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানান ।পরে ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ বেলাল ট্রলারটি ঘুরিয়ে নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে নিয়ে নোঙর করে রেখেছেন।
ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ বেলাল বলেন, বুধবার (৫ জুন) রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে স্থগিত কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তা ও সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার সময় একই ট্রলারকে লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায়ও কেউ হতাহত হয়নি। শনিবার পুনরায় ওই ট্রলারে করে পণ্য নিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় মিয়ানমারের উপকূল থেকে ট্রলারকে লক্ষ্য করে ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়। পরে ট্রলারটিকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে এনে নোঙর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওপার থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) নাকি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি গুলি চালিয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। এসব মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী একমাত্র জোগান টেকনাফ থেকে আসছে। গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে এই নৌপথে চলাচলকারী সার্ভিস ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ নৌপথে ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক করতে ওই এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও বিজিবির টহল জোরদার করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২বিজিবি) অধিনায়ক লে কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গুলির বিষয়টি শুনেছি। সার্ভিস ট্রলারকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের সীমাস্তরক্ষী বিজিপির কাছে প্রতিবাদ লিপি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।