জিয়া ছিলেন এদেশের কৃষক মজুর সব শ্রেণির মানুষের নেতা

৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর জেলা বিএনপির আলোচনা সভায় গোলাম আকবর খোন্দকার
বিএনপি চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেছেন, জিয়াউর রহমান না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা হতো না। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এদেশের কৃষক-মজুর সর্বশ্রেণির নেতা।
তিনি বলেন,দেশের সকল দুর্যোগে মেজর জিয়াউর রহমান জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ৭১ সালে দেশের নেতৃত্ব যখন দোদূল্যমান, তারা যখন কোন দিক নির্দেশনা দিতে পারছিলেন না, ঠিক ওই সময় সেনাবাহিনীর একজন মেজর চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করলেন। ১৯৭৫ সালে আজকের সরকারের পূর্বসূরীরা জাতিকে একটা অন্ধকারের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। তারপর সিপাহী-জনতা একত্রিত হয়ে জিয়াউর রহমানকে রাজনীতি ও ক্ষমতার সামনে নিয়ে আসেন। জিয়াউর রহমান মানুষের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, একটা মুক্ত বাংলাদেশ তৈরি করেছিলেন। আবার একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই জাতি কখনো জাতির অবস্মরণীয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে ভুলে যাবে না।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান না থাকলে আমরা গণতন্ত্র পেতাম না, জিয়াউর রহমান না থাকলে আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পেতাম না। তিনি বাকশাল বন্ধ না করলে বাকশাল অব্যাহত রাখা হত। জিয়াউর রহমান রাজনীতি করেছেন, তেমনি সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন।

তিনি আজ ৩০ মে বৃহসাপতিবার বিকেলে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয় চত্বরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়
প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম বিএনপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম।

মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি। তার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছেন। এরপর তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প স্থাপন, জনশক্তি রফতানি, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও রফতানি করেন। তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। তার জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশ ও স্বাধীন পতাকা পেতাম না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন নিষ্ক্রিয় ছিল তখন জিয়াউর রহমান উই রিভোল্ট বলে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এরপর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন ও যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম মহানগর সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, আলহাজ সালাউদ্দিন, নুরুল আমিন, নূর মোহাম্মদ, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়ত হোসেন, কাজী মোঃ সালাউদ্দিন, অধ্যাপক আজম খান, এডভোকেট এম এ তাহের, কর্ণেল আজিমুল্লাহ বাহার, অধ্যাপক জসীম উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, মোহাম্মদ সেলিম চেয়ারম্যান, অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার, শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত, আনোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন, এজাহার মিয়া, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, আবু জাফর চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, আব্দুস সালাম, গাজী নিজাম উদ্দিন, কাজী মহিউদ্দিন, ইফতেখার উদ্দিন, ওহিদুল আলম, সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, আকবর আলী, মোহাম্মদ সিদ্দিক, মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারেক, শফিউল আলম চৌধুরী, কবির চেয়ারম্যান, রহমত উল্লাহ মেম্বার, এ এইচ এম নুরুল হুদা, সাইফুল আলম টুটুল, মোহাম্মদ আশরাফ উল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় নগরীর ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে জনাব গোলাম আকবর খোন্দকার এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন।