গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল

রোববার বাংলাদেশের উপকূল জুড়ে রাতভর তাণ্ডব চালানোর পর বর্তমানে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এটি আর বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরের মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে এখনো মাছ ধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাত ৮টায় বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। রাতভর এর তাণ্ডবে সৃষ্ট ঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়েছে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরের বেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙ্গেছে গাছ পালা, বাড়িঘর, তলিয়ে গেছে অগনিত মাছের ঘের। নিজের ভিটে- বাড়ি ছেড়ে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র।

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিছেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বঙ্গপোসাগরের উপকূলের জেলা বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সম্পূর্ণ বাগেরহাট জেলা।

বাগেরহাটের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলনে, এ পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রোববার মধ্য রাতে মূল ঝড়টি আঘাত হানে সাতক্ষীরা উপকূলে। এসময় অনেকে বাড়িঘড় ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটতে শুরু করে।

ভোররাত পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলে তাণ্ডব শেষে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। সকাল সাতটার পর থেকে আবারো ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায়।
খুলনার কয়রা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল রাত থেকেই বাঁধের ওপর থেকে পানি আসতে শুরু করে কয়রার বিভিন্ন এলাকায়। সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত দশটি পয়েন্ট থেকে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি ঢুকে তলিয়ে যেতে শুরু করে বিশাল এলাকা। এখন পর্যন্ত ঝড়ের কারণে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি, মহিষাপুর ও কয়রা সদর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকার বাঁধ উপচে পড়ে ও ভেঙে গিয়ে পানি ঢুকছে।

এদিকে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অন্তত পাঁচ ফুট পানি বাড়লে বরগুনার আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী ও পশুর বুনিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এই এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট ভেঙে গেছে। এর ফলে বালিয়াতলী ও পশুরবুনিয়া গ্রাম ২-৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে বোরো ধানের ক্ষেত।