ইউরোপ জানতো ইলেকশনে আমিই জিতে আসবো

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্য- প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রমজানে কোনো কিছুর অভাব হবে না। ইতিমধ্যে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোলা, খেজুর, চিনিসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মজুত করে রেখে পচিয়ে যারা বস্তায় বস্তায় পিয়াজ পানিতে ফেলে, তাদের ‘গণধোলাই দেয়া উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রকৃত রাজনৈতিক দলের অভাব রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়েছিল গণমানুষের কথা বলে। সেই সময় থেকে যত আন্দোলন-সংগ্রাম করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে। আমি আমার প্রতিপক্ষ কয়েকটি দল দেখি একটা যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামী, যাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। অন্যদিকে মিলিটারি ডিকটেটরদের পকেটের দুটি পার্টি একটি বিএনপি, আরেকটি জাতীয় পার্টি। ক্ষমতার উচ্চ আসনে বসে যে দলগুলো তৈরি হয় সে দলগুলোর মাটি-মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটা থাকে না। গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সাম্প্রতিক জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যগণ ও সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার লেখক মো. নজরুল ইসলাম। বিদেশ সফরকালে নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলেননি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাদের (বিশ্ব নেতা) কোনো উদ্বেগ নেই, প্রশ্নও নেই। বেশির ভাগই আলোচনা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় এবং আমরা যে ১শ’টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি তাতে তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি কারণ তারা নিজেরাও জানতো যে নির্বাচনে আমি জিতে আসবো। এক দেশে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় ১২/১৩ দিন সময় লাগলেও সে ইলেকশন ফ্রি এন্ড ফেয়ার (অবাধ ও নিরপেক্ষ) আর বাংলাদেশে নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেজাল্ট এসে গেল সেটা নাকি ফ্রি এন্ড ফেয়ার নয়! কাজেই এই রোগের কোনো ওষুধ আমাদের কাছে নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশ্ব মোড়লরা দ্বিমুখী নীতিতে বিশ্বাস করে। ফিলিস্তিনের সব জমি দখল করে রেখেছে, সেটি ইনভেশন নয়, ইউক্রেনেরটি ইনভেশন। এ দ্বিমুখী নীতি কেন হবে, সেটি আমার প্রশ্ন ছিল। আমি বলেছি। অনেকেই সাহস করে বলবে না।
নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সংবাদ সম্মেলন। আগামী পাঁচ বছরের সরকারের মূল পরিকল্পনা কি, দেশের অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে করণীয় ছাড়াও দেশের সবশেষ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সাংবাদিকদের অসংখ্য প্রশ্নের স্বভাবসুলভ হাসিমুখে জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

ষড়যন্ত্র ছিল, ষড়যন্ত্র আছে
নিত্যপণ্য মজুত করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর সঙ্গে সরকার উৎখাতের আন্দোলনে জড়িতদের যোগসূত্র দেখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গত বছরের ২৮শে অক্টোবর বিএনপি’র সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল’ বলেই তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এগুলো যে হঠাৎ করে করা তা তো না, এটা পরিকল্পিতভাবে। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দেশে মার্চের দিকে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে বলে তিনি নির্বাচনের আগে মন্তব্য করেছিলেন, সেই শঙ্কা এখনো আছে কিনা। আর বাজার কারসাজি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়। উত্তর দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্র তো ছিল, ষড়যন্ত্র তো আছে। আপনারা জানেন, আমি দেশে আসার পর থেকে বার বার আমাকে বাধা দেয়া, ক্ষমতায় যেন না যেতে পারি। ’৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার ঘটনাই ধরেন না কেন, রাসেলকেও তো ছাড়েনি, কেন যেন ওই রক্তের কেউ বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে। তিনি বলেন, আমি আর আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম, বেঁচে গেছি, ফিরে এসে দায়িত্ব নিয়েছি। আমার চেষ্টাই হচ্ছে, যে স্বপ্ন নিয়ে জাতি দেশ স্বাধীন করেছে, সেটাকে পূরণ করা। ষড়যন্ত্র প্রত্যেকবারই হচ্ছে, বার বার আজকে মানুষের ভোটের অধিকার, আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছি, গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে এনেছি, তার সুফল দেশবাসী পাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনটা যাতে না হয়, তার জন্য একটা বিরাট চক্রান্ত ছিল, আপনারা জানেন।

একটা শ্রেণি আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু কথা বলা আমাদের বাঙালির চরিত্র, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। একটা দলই আছে যাদের কিছু ভালো লাগে না। তারপর যখন হয়, তখন সেটা তারা উপভোগ করে। তিনি বলেন, আমি নিজেই একটি টেলিভিশনের টকশোতে শুনেছি। হঠাৎ মাঝে মাঝে শোনা হয়। আমি জানি না, আমার কী রকম ভাগ্য আছে। মাঝে মাঝে কিছু ক্রিটিকাল জায়গায় হয়তো বসে আছি, রিমোট কন্ট্রোল টিপে একটার পর একটা দেখতে থাকি। খেলা যখন দেখি, তখন দেখলাম তুমুল আলোচনা। এই ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে মেট্রোরেল করার কী দরকার ছিল, ৩ হাজার কোটি টাকায় ট্রাফিক জ্যাম বন্ধ করা যেতো, এ টাকায় বাস কিনে দিলে ট্রাফিক জ্যাম বন্ধ হয়ে যেতো, কাজেই ৩০ হাজার কোটি টাকা কেন লাগবে? এটা নিয়ে তুমুল অবস্থা, অনেক আলোচনা। যারা এ আলোচনাগুলো করেছিল তারা এখন কী ভাবছে? তার মধ্যে একজন ছিল দূষণের ব্যাপারে। মেট্রোরেল তো দূষণ করে না। এটা নিয়ে তার কিছুই বলার ছিল না, বলেনি। একজনকে পেয়েছিলাম, জিজ্ঞেস করলাম কী ব্যাপার? তখন সে বলেছিল আপা আমি কিছু বলি নাই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বুঝে সবাই। বুঝে না তা নয়, বুঝেও না বোঝার ভাণ করে। কিছু লোক তো আছেই। যুগ যুগ ধরে আছে, যুগ যুগ ধরে থাকবেই। ওগুলো বেশি পাত্তা না দিলেও চলে। আমি পাত্তা দেই না। তিনি বলেন, মানুষের যে খাদ্যগ্রহণ বেড়েছে, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে এটা স্বীকার করলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা করবে না।

আমাদের বিশ্ব মোড়লরা দ্বিমুখী নীতিতে বিশ্বাস করে
রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে বিশ্ব নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করার কথা যাদেরই বলি- সবাই সমর্থন করে। কিন্তু উদ্যোগটা নেবে কে? এটিও একটি প্রশ্ন। যারা বিশ্ব মোড়ল, তারাই যদি যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে আর বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? তবে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের ভুক্তভোগী আমরা। মানুষ যে গণহত্যার শিকার হয়েছে সেটা আমরা জানি। পরাশক্তিগুলোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিশ্ব মোড়লরা দ্বিমুখী নীতিতে বিশ্বাস করে। ফিলিস্তিনের সব জমি দখল করে রেখেছে, সেটি ইনভেশন নয়, ইউক্রেনেরটি ইনভেশন। এ দ্বিমুখী নীতি কেন হবে, সেটি আমার প্রশ্ন ছিল। আমি বলেছি। যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্ব কষ্ট পাচ্ছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। সারা বিশ্বে এর প্রভাব পড়ছে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তা বন্ধ করতে দাবি জানিয়েছে। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাইনি, ঝগড়া করতে যাইনি। আমরা ধৈর্য ধরেছি, আলোচনা করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি, তারা ফেরত নিক। এখন যে অবস্থা চলছে, আমি সবাইকে বলেছি ধৈর্য ধরতে। তিনি বলেন, কোনো কিছুতে আমাদের কোনো রকম উত্তেজিত হলে চলবে না। শান্ত মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তা করে আমরা সুফল পাচ্ছি। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমরাই কিন্তু সবচেয়ে সুস্থ অবস্থায় আছি। অন্য দেশগুলো কষ্ট পাচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে। এটি অনেক দিন হয়ে গেছে। সেই সমস্যার সমাধান কোথায়? এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি বার বার। আসলে মিয়ানমারের অবস্থা এত খারাপ! আর বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যখন কথা বলি, সবাই রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখান। কিন্তু আসলে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর কিছু হচ্ছে না। এই হলো বাস্তবতা।

নতুন কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম তৈরির চিন্তা কী করছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সাধারণ একজন মানুষ। ছোট একটি ভূখণ্ডে বিশাল জনগোষ্ঠী। আমি তা নিয়েই ব্যস্ত। তবে কোথাও কোনো অন্যায় দেখলে আমি আমার কণ্ঠ সোচ্চার করি, প্রতিবাদ করি। যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই- এই কথাটি বলি। কিন্তু কোনো প্ল্যাটফরম করার মতো দক্ষতা আমার নেই। যোগ্যতাও আমার নেই। সেই চিন্তাও আমার নেই। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি অনেক প্ল্যাটফরম হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে তো কাজের সময় কাজে লাগে না। সেটি হলো বাস্তব। না হলে আজ গাজায় যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা কাউন্সিলে প্রস্তাব আসে। সেখানে ভেটো দেয়া হয়। বাংলাদেশের যুদ্ধ চলার সময়ও এ অবস্থা আমরা দেখেছি। আমার যেটুকু ক্ষমতা, আমার ক্ষমতা সম্পর্কে আমি যথেষ্ট সচেতন। এর চেয়ে বড় কিছু চিন্তা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। সেই দক্ষতাও আমার নেই।

টানা টাঙ্গাইল শাড়ি পরার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
গত ৭ই ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়িকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে ঘোষণার করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এর আগে ভারত টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি নিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে টাঙ্গাইল শাড়ি কার, ভারত নাকি বাংলাদেশের সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। টাঙ্গাইলের শাড়ির জিআই সনদ নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে আমরা আবেদন করেছি। কয়েকদিন আমি সমানতালে টাঙ্গাইলের শাড়ি পরলাম এই জন্য যে যাতে দেখাতে পারি এটা আমাদের। কাজেই এটা অন্য কেউ নিতে পারবে না। এ সময় নিজের পরনে থাকা সফিপুরের শাড়ির আঁচল দেখিয়ে এর প্রশংসা করেন তিনি।

মিউনিখ সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। তিনি গত ১৬-১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মূলত, রাষ্ট্র-সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫ জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তার লিখিত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।