নির্বাচন উন্মুক্ত না হলে গণতন্ত্র কেড়ে নেয়া হতো

আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন উন্মুক্ত না হলে শুধু তা কলঙ্কিত হতো না, দেশের গণতন্ত্রকেও কেড়ে নেয়া হতো।
গতকাল দলের বিশেষ বর্ধিত সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। গণভবনে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সারা দেশের নেতারাও অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনও সবার জন্য প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গত ১৫ বছরে সাধারণ মানুষের জন্য কে কতোটা কাজ করেছে এবং কে ইতিপূর্বে তা করতে পারেনি তাও খতিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে আমরা দেখবো, কাকে জনগণ গ্রহণ করেছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো ধরনের সংঘর্ষের বিরুদ্ধে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা কোনো ধরনের সংঘর্ষ চাই না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে যেই হোক না কেন।

তিনি বলেন, যারা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান, তাদের অবশ্যই এরপক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরতে হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু সেগুলোও বিরোধীরা মেনে নিতে পারেনি। বাংলাদেশের নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে। জনপ্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সকলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
তিনি বলেন, দ্বাদশ নির্বাচনে যাতে ভোটাররা না আসে, নির্বাচন অবাধ হতে না পারে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সহজ হয় তা নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে।

নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে লক্ষ্যে আমি এই নির্বাচনকে উন্মুক্ত করেছি, যাতে- অন্তত একজন প্রতিপক্ষ থেকে যাবে এবং নির্বাচনটি হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। ভোটাররা আসবে, তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেবে, তারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে, জনগণ সেই অধিকার পাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোথাও কোনো সমস্যা হলে আমরা তার সমাধান করবো। কেন্দ্রীয় কমিটি তা করবে।

তবে, নিজেদের মধ্যে কোনো আত্মঘাতী দ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, বার বার নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত হয়েছে। সব চক্রান্ত মোকাবিলা করে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। ২০১৪তে চেষ্টা করেছে, নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। ২০১৮তে এসেও আবার পরাজয় জেনে সরে গেছে। নির্বাচন যেন না হয়, সে অপচেষ্টা করেছে। এবারো বানচাল করার চেষ্টা করেছে। এখনো লম্ফঝম্প করছে। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।

চাঁদাবাজি ও মজুতদারি বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ: এলাকায় চাঁদাবাজি ও মজুতদারি বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় তিনি বলেন, সব জায়গায় চাঁদাবাজি ও মজুতদারি বন্ধ করতে হবে। আপনারা বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধি, এতে আপনাদেরও নজর দিতে হবে। একদিকে কৃষক যাতে প্রকৃত মূল্যটা পায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। অন্যদিকে, এই অহেতুক চাঁদাবাজি ও মজুতদারির জন্য যাতে পণ্যের দাম না বাড়ে, সেটি দেখতে হবে।

বর্ধিত সভার শুরুতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।
আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, জেলা-মহানগর ও উপজেলা-থানা-পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়র এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সভায় অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে অনেক কিছু ভাবছেন, উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করে ঝড়ের মধ্যে, দুর্যোগের মধ্যে এই দলকে বঙ্গবন্ধুর রক্তে ভেজা মাটিতে আজকে বিকাশের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সিম্পল লিভিং, হাই-থিংকিং শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র। আমরা এমন নেত্রী পেয়েছি যিনি সততার জন্য সারা বিশ্বে সমাদৃত। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ নেতৃত্বের প্রথম সারিতেই আমাদের নেত্রীর নাম রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ১ হাজার ৫৫০ জন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে দিতে হবে মাত্র ৪৮ জনকে। এটা নেত্রীর ওপর ছেড়ে দিন।