প্রতিকূলতাকে জয় করা এক বিস্ময় বালক

    মাত্র ১৩ বছর বয়সী সিঙ্গাপুরের একটি বালক বিস্ময় দেখিয়েছে। সে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। নিজের ভিতরকার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার নাম নাথানায়েল কোহ। বয়স যখন এক বছর তখন ধরা পড়ে এমন শারীরিক অসুস্থতা, যা তার বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শারীরিক উন্নতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সে নিজের থেকে কোনো কাজ করতে পারবে না কখনোই। এমন খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার পিতামাতা। নাথানায়েল কোহ-এর পিতা ক্রিস কোহ (৪৫) স্ট্রেইটস টাইমসকে বলেছেন, দুই বছর বয়সেও সে কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারতো না। শিশু হিসেবে সে কোনো কথাও বলতে পারতো না। কোনো শব্দ করতে পারতো না।

    যা কিছু বলার চেষ্টা করতো তাতে শব্দগুলো জড়িয়ে যেতো। তার এমন অবস্থায় আমি ও আমার স্ত্রী কয়েকমাস কেঁদেছি। কিন্তু হঠাৎ করে এক দম্পতি বইয়ের সঙ্গে নাথানায়েল কোহ’কে পরিচয় করিয়ে দেন। এতে দেখা যায়, তার মধ্যে পড়ার সক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে। তার শিক্ষকরা যেমনটা আশা করছিলেন, তার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সে।

    ১৫ই ডিসেম্বর তার বয়স ১৩ বছর হয়েছে। এ সময় অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ) থেকে সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থীদের অন্যতম হিসেবে সে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে। যথাযথ পয়েন্ট নিয়ে মিউজিক কম্পোজিশনে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করে। তার থিসিসে অর্জন করে উচ্চ মাত্রায় ডিস্টিংশন। হারমোনি বা সুরের সঙ্গে লিনিয়ার অ্যালজেবরার ব্যবহার আবিষ্কার করে। তার বয়সের দ্বিগুন বা তিনগুন বয়সের শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে রাখে। তাদের সামনে নাথানায়েল কোহ বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন পাঠ নিয়ে বা সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার কোনো সমস্যা হয়নি। তার ভাষায়, আমরা সব সময় একই লেভেলের মনে করতাম। আমরা সঙ্গীতের অভিন্ন ভাষায় যোগাযোগ করতাম।

    নাথানায়েল কোহ মাত্র তিন বছর বয়সে পিয়ানো বাজানো শুরু করে। তার আঙ্গুলগুলো ছিল খুবই দুর্বল। এ কারণে তার শিক্ষকরা তাকে সঙ্গীত বিষয়ক থিওরি পড়ার সুপারিশ করেন। পরে সে শিখে নেয় পিয়ানো, ক্লারিনেট এবং স্যাক্সোফোন বাজানো। ৯ বছর বয়সে ট্রিনিটি কলেজ লন্ডন থেকে সঙ্গীতের থিওরির ওপর সে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। একই বছরে তাকে বানানো হয় সিঙ্গাপুরের কিডস ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রাতে সবচেয়ে কম বয়সী কম্পোজার-ইন-রেসিডেন্স। তার মূল কম্পোজিশন এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিনল্যান্ডের পেশাদার মিউজিশিয়ানরা পারফরম করেছেন।

    সঙ্গীতে তার অবদানের জন্য সিঙ্গাপুরে মেনসা সোসাইটির উচ্চ পর্যায়ের ইন্টেলিজেন্স কোশিয়েন্ট (আইকিউ)-এর সদস্য করা হয়। নিউজিল্যান্ডের তার আইকিউ ছিল ১৩২। ১২ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবারি থেকে বেশ কিছু গাণিতিক মড্যুলে এ-প্লাস স্কোর করে। তার পিতা একজন সামাজিক উদ্যোক্তা বিষয়ক পরিচালক। তিনি বলেছেন, চার বছর বয়স পর্যন্ত ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারতো না নাথানায়েল কোহ। এমনকি সাত বছর বয়স পর্যন্ত কঠিন খাবার খেতে পারতো না। নিজে নিজে গোসল করা, দাঁতে ব্রাশ করা এবং টয়লেটে যাওয়া শেখে যখন তার বয়স ১০ বছর হয়। তিনি আরও বলেন, উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে নাথানায়েল কোহ এবং উদ্ভট শব্দ করে। তার মধ্যে কোনো রোগ আছে এটা মনে করে অনেক মানুষ আমাদেরকে এড়িয়ে চলতো।