ডেঙ্গুতে নতুন ৩০৮৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি, ১৭ জনের প্রাণহানি

চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে। একদিনে আরও ১৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত ৮৩৯ জন মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। গত মাসের তুলনায় মৃত্যুর হারও বেশি চলতি মাসে। গত মাসে গড়ে দৈনিক ১১ জন করে মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। সেখানে এ মাসে গড়ে প্রতিদিন ১৩ জনের বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল ততই দীর্ঘ হচ্ছে। ঢাকার বাইরেই ডেঙ্গুর দাপট বেশি। রাজধানীর চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে গ্রামে। দেশে ইতিমধ্যে ডেঙ্গু রোগী মৃত্যু ও শনাক্তে পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ হাজার ৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে ৭৪ হাজার ১২৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ৯৬ হাজার ৬৪১ জন। মৃত ৮৩৯ জনের মধ্যে নারী ৪৮৩ জন এবং পুরুষ ৩৫৬ জন। মোট মৃত্যুর মধ্যে ঢাকার বাইরে মারা গেছেন ২৬৫ জন এবং রাজধানীতে ৫৭৪ জন।
আজ সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩ হাজার ৮৪ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৮৯৪ জন এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ১৯০ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ৩ হাজার ৮৪ জনসহ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২ জনে। ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩ হাজার ৮৬১ জন এবং ঢাকার বাইরে ৬ হাজার ১৭১ জন। চলতি বছরের এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীর মধ্যে পুরুষ আক্রান্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮৪ জন এবং নারী ৬৬ হাজার ২৮৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯৭ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৬ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ১৬৬ জন এবং মারা গেছেন ৩ জন, মার্চে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১১ জন এবং এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৩ জন এবং মারা গেছেন ২ জন। মে মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬ জন এবং মারা গেছেন ২ জন। জুন মাসে ৫ হাজার ৯৫৬ জন এবং মারা গেছেন ৩৪ জন। জুলাইতে শনাক্ত ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন এবং মারা গেছেন ২০৪ জন। আগস্টে ৭১ হাজার ৯৭৬ জন শনাক্ত এবং প্রাণহানি ৩৪২ জন। সেপ্টেম্বরের ১৮ দিনে শনাক্ত রোগী ৪৬ হাজার ৯৬০ জন এবং মারা গেছেন ২৪৬ জন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ অনেক ডেঙ্গু রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন, তাদের হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খাতায় নেই।